আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধু রেবেকা বেগম (২৮) হত্যাকান্ডের মূল আসামী নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম (৩২) কে র‌্যাব-১ এর সিনিয়র এ এসপি সালাউদ্দিন এর নেতেৃত্বে অভিযান চালিয়ে জামালপুর জেলার ইসলামপুর থেকে গ্রেফতার ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মেন্টস এর পিছনের একটি পুকুর থেকে গত ২৮ জুন আশুলিয়া থানা পুলিশ এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। আশুলিয়া থানা পুলিশ মৃত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবারকে জানায়। পরবর্তীতে মৃতের পরিবারের লোকজন এসে লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে, নিহতের স্বামী মফিজুল তার স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছে।

র‌্যাব জানায়, এ ব্যাপারে মৃত রেবেকা বেগমের মা খোদেজা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলামকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলা নং ০৮/৪১০ তারিখ-০৫-০৭-২০২০ইং, ধারা-১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ৩০২/২০১/৩৪। এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করে ।

র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর জেলার ইসলামপুর পৌর এলাকার মোশারফগঞ্জ টঙ্গের আগলা গ্রামের মেয়রের বাজারে অভিযান চালিয়ে মফিজুলকে গ্রেফতার করেন। তাকে গ্রেফতার করার পর তার কাছ থেকে ভিকটিমের ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মফিজুল ইসলাম নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার সুন্দরখাতা দক্ষিণের মোঃ সায়েব আলীর ছেলে। মফিজুল তার স্ত্রী রেবেকা বেগমকে হত্যা করেছে বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে।

গার্মেন্টেসে চাকুরী করার সুবাধে ২০০৬ সালে রেবেকা বেগমের সাথে মফিজুল ইসলামের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের ১০ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের ৫ বছর পর পারিবারিক কলহের কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে মফিজুল ২য় বিয়ে করে। গত ৬ মাস পূর্বে রেবেকা ও মফিজুলের সাথে আবার যোগাযোগ হয় এবং গত ৬ জুন ২০২০ইং তারা পুনরায় বিয়ে করে।

পরে রেবেকা তার স্বামীকে নিয়ে এক সাথে বসবাস করার জন্য প্রায়ই বলত। এই নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হত। গত ২৭ জুন ২০২০ইং রাত ৯টারদিকে ভিকটিম রেবেকা বেগম তার স্বামীকে মোবাইলে ফোন করে মিরপুর তার বাসায় চলে যায় এবং একত্রে বসবাস করতে বলে। তখন তার স্ত্রী রেবেকাকে আরো কিছুদিন ধৈয্য ধরার জন্য বলে। এরপর মিরপুর থেকে আশুলিয়ার বাসার কাছে পুকুর পাড়ে এসে আবার তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম রেবেকা বেগমকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে ভিকটিমের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় মর্মে স্বীকার করেছেন মফিজুল।

এ ব্যাপারে নিহত রেবেকার শিশু মেয়ে বলেছিলো, তার মাকে তার বাবা মফিজুলই হত্যা করতে পারে। র‌্যাব-১ এর সদস্যদের সততা ও সাহসী ভুমিকায় একাধিক হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী র‌্যাব বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।