ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : ময়মনসিংহে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) আওতায় চলছে ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের ইউ ড্রেনের কাজ। এর ভিত্তি ঢালাইয়ে ইট, বালু, সিমেন্ট আর সুরকির সঙ্গে রড দেয়ার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। এমনই অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম পাটুলি ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুদারবন্দ এলাকায়। ইউ ড্রেন নির্মাণ করছেন প্রকল্পের সভাপতি একই ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী।

এদিকে ভিত্তি ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় এক যুবক। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। পরে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম গালিব খান ও ইউএনও আশরাফুল সিদ্দিক।

ইউপি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে আছিম-পাটুলী ইউপিতে এলজিএসপি প্রকল্পের ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২ টাকায় ১০টি প্রকল্প করা হয়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গি-কান্দানিয়ার কালির চালা থেকে পান্নাবাড়ি সড়কের তালেব আলীর জমির পাশে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়। ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী শুক্রবার রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করেন। এ সময় ইউ ড্রেন নির্মাণে ভিত্তি ঢালাই করতে গিয়ে রডের বদলে বাঁশের ফালি ব্যবহার করেন মোহাম্মদ আলী।

একই সড়কের খাপসার খালে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রাশিদা খাতুন। তিনি নিজেই প্রকল্পের কাজটি করাচ্ছেন। কিন্তু সেই ইউ ড্রেনের ভিত্তি ঢালাইয়ে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক।

এছাড়া আছিম-পাটুলী ইউপি প্রকল্প কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কাজ চলার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো তদারকি নেই বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ইউ ড্রেন দুইটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রডের পরিবর্তে বাঁশ দেয়ার সময় প্রতিবাদ করেছি; ইউপি সদস্যরা শোনেননি।

ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ইউ ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে বিলের পানি আটকানোর জন্য বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। পরে ভিত্তি নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারের কথা স্বীকার করে জানান, ভিত্তি ভেঙে বাঁশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রাশেদা খাতুন বলেন, ঢালাই দিয়েছি সচিবের কথা অনুযায়ী। আমাকে তো আর বলেনি নিচেও রড দেয়া লাগবে। তবে ইউপি সচিব হাজেরা খাতুন বলেন, আমাদের না জানিয়ে বন্ধের দিন ইউ ড্রেনের কাজ শুরু করেন ইউপি সদস্য রাশেদা খাতুন।

ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সাইফুজ্জামান বলেন, রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার-এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

ফুলবাড়িয়ার ইউএনও আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ময়মনসিংহের ডিসিকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম গালিব খান বলেন, একটিতে ভিত্তি নির্মাণে রড ব্যবহার করা হয়নি, আরেকটিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ইউ ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।