ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে দরিদ্র-অসহায় এক নারীর কাছ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নবজাতক ক্রয় করার অপরাধে নিঃসন্তান দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে সহযোগিতা করায় ডাউটিয়া রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্স সাদিয়াকেও আসামী করা হয়েছে। রবিবার রাতে নিঃসন্তান দম্পতির কাছ থেকে বিক্রিত নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফেরত দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু সন্তান কোলে ফিরে পেলেও অভাবের সংসারে স্বামী, বাবা-মা হারিয়ে নাজমা চোখে শুধু অন্ধকারই দেখছেন।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও সন্তান বিক্রি করা নাজমার কাছ থেকে জানা গেছে, ধামরাইয়ের সূতিপাড়া ইউনিয়নের বাটারখোলা গুচ্ছগ্রামের ভাড়াটিয়া নাজমা বেগম বৃহস্পতিবার রাতে ডাউটিয়া রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে অস্ত্রপচারের (সিজার) মাধ্যমে এক পুত্র সন্তান জন্মদান করেন। অভাবের তাড়নায় নবজাতককে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করেন সাভারের নিঃসন্তান দম্পতি মাদ্রাসার শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও সাথী আক্তারের কাছে।

এ নিয়ে রবিবার দৈনিক ফুলকিসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশ ঘটনায় জড়িত নার্স সাদিয়াকে আটক করে। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিক্রিত নবজাতককে রবিবার রাতে নিঃসন্তান দম্পতির কাছ থেকে উদ্ধার করে নাজমার কোলে ফেরত দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিঃসন্তান দম্পতি ও নার্স সাদিয়ার নামে মামলা করা হয়েছে।

হেলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী সাথী কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, অন্য দশজনের মত আমাদের বাবা-মা ডাক শুনতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে অনেক চেষ্টা করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারিনি। তাই দত্তক হিসেবে নবজাতক কিনে নিয়েছিলাম। তবে আমরা বুঝতে পারিনি আইনগতভাবে দত্তক নিতে হয়।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা জানান, দত্তক নেয়ার বিধান বা যথাযথ প্রক্রিয়া (আইনী) অনুসরণ না করায় নিঃসন্তান দম্পতিসহ বিক্রিতে সহযোগিতা করায় সাদিয়ার নামে মামলা রুজু করা হয়েছে।

এদিকে নাজমা বলেন, পৃথিবীর কোন মা-ই তার সন্তান বেচতে চায় না। অভাবেই বেচছিলাম। তবে আমার সন্তান ফিরত পাইছি ঠিকই মনটা ভালও লাগছে। কিন্তু ওরে কি খাওয়ামু কিভাবে ভরণপোষণ করমু ওই সামর্থই নাই আমার। আমার তো থাকারই ঘর নাই।

নাজমার স্বামী বাবুল হোসেন ছিলেন সাইকেল মেকার, বৃদ্ধ বাবা ও মা ছিলেন ইটভাটার শ্রমিক। তাদের উপার্জিত আয়েই চলত তাদের ছয় সদস্যের সংসার। স্বামী, দুই সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে গুচ্ছগ্রামে ভাড়া থাকতেন নাজমা। নাজমার রয়েছে আট বছর বয়সের এক মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সের এক ছেলে। তাদের রেখে গত দুই মাস আগে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান স্বামী। ছয়দিন আগে মারা যান নাজমার বাবা আক্কাস আলী। এর সাত মাস আগে মারা যান নাজমার মা। নিত্যদিনের অভাব আর প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নাজমা। এখন নাজমার থাকার ঘরও নেই। নেই কোন জমিজমা। নাজমার চোখে শুধুই অন্ধকার।