আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ তার দুই মেয়ে আহত হয়েছে। ঘটনায় ওই নেতা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে শিমুলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সামান উদ্দিন খান আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দেন। এর আগে সকালে বাইদগাও নিজ বাড়িতে দুই মেয়ে এবং পাগলা বাজারে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হন তিনি।

হামলায় আহতরা হলেন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাইদগাও এলাকার মৃত আলী আহম্মেদ খানের ছেলে সামান উদ্দিন খান (৪৮), তার বড় মেয়ে তেজগাঁও মহিলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা খানম (২১) ও ছোট মেয়ে শ্রাবনী খানম (১৫)।

ভুক্তভোগী সামান উদ্দিন খান জানান, জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সকালে প্রতিপক্ষ ফরহাদ (৪০), আশরাফ (৫০), বাইদগাও এলাকার মৃত. আলী আহম্মেদ খানের ছেলে ছানোয়ার (৩৫) এবং টিপু খান (২৫) আরো ৩/৪ জন লাঠিসোটা, ছ্যানা ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এসময় আমার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে লাবনীকে ফরহাদের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে আমার ছোট মেয়ে শ্রাবণী এগিয়ে আসলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে। এসময় আমাদের মেয়েদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা চলে যায়। তারা যাওয়ার সময় আমার মেয়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, ঘরে আলমারি ভেঙ্গে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং জমির কাগজপত্র নিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার সময় আমি স্থানীয় পাগলা বাজারে ছিলাম। সেখানে টিপু মোটর সাইকেলযোগে ফরহাদকে নিয়ে এসে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আবার মোটরসাইকেল যোগে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমি ও আমার দুই মেয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হই এবং বিকেলে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাহারুল ইসলাম জানান, জমি জমা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যেই বিরোধ ছিল। দুই পরিবারের মধ্যেই মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পরিবারের ৩/৪ জন আহত আছে। এছাড়া উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।