মাসুম বাদশাহ,সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খৈয়ামুড়ি গ্রামের পাট ক্ষেত থেকে শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে দেওয়ান আমির হোসেন ওরফে লালন (৪২) নামের এক রাজ মিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছেন থানা পুলিশ। নিহত লালন ২ সন্তানের জনক ও পৌর সদরের সিংগাইর মধ্যপাড়া মহল্লার মুক্তিযোদ্ধা মৃত দেওয়ান হারুন অর রশিদের পুত্র।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে লালন বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘোনাপাড়া হাসপাতালের মোড়ে গেলে সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। আইনশৃংখলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে এমন খবরে তার পরিবার সিংগাইর থানায় যোগাযোগ করে না পেয়ে থানার এসআই আল মামুনের মাধ্যমে বিভিন্ন থানায় খোঁজ নেন। পরদিন (শনিবার)সকালে খৈয়ামুড়ি গ্রামে রাস্তার পাশে আবুল হোসেনের পাট ক্ষেতে কামলারা কাজ করতে গেলে নিহতের লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে থানায় ফোন দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন।
নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান,তার স্বামী ইতিপূর্বে ব্রিটানিয়া গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। করোনার কারণে সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। প্রতিবেশী মাদক ব্যবসায়ী উজ্জলের ইয়াবা হারানো যাওয়ায় আমার স্বামীকে সন্দেহ করে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকি দিতো। এ ঘটনার জের ধরে উজ্জল ও তার ভাই অনিক অপহরণ করে আমার স্বামীকে হত্যা করে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়রের কাছে বিচার দিয়েছিলেন বলেও নিহতের স্ত্রী জানান।
নিহত লালনের স্ত্রীর বিচার চাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে সিংগাইর পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভঁইয়া জয় বলেন, অভিযুক্ত উজ্জল দেশের বিভিন্ন থানার একাধিক মাদক মামলার আসামী। সে এলাকায় থাকে না বিধায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। নিহতের লাশের সুরতহালকারী কর্মকর্তা এস আই আনোয়ার হোসেন বলেন, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।