ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং করোনা বিস্তাররোধে ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়নে ক্লাস্টার লকডাউন ও ধামরাই পৌরসভায় লকডাউন স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার থেকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ধামরাই পৌরসভা , আমতা, সানোড়া, সূতিপাড়া, সোমভাগ, ধামরাই ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। সে মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মাইকিং করা হয়। কিন্তু আকস্মিকভাবে উপজেলা প্রশাসন লকডাউন স্থগিত করেন শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায়। এদিকে রেড জোন চিহ্নিত হলেও কেন লকডাউন স্থগিত করা হলো-এবিষয়ে জানতে এ প্রতিবেদকের কাছে অসংখ্য ফোন আসে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, লকডাউনের বিষয়ে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে সিভিল সার্জনের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সিভিল সার্জনের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে লকডাউন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ধামরাইতে এর ব্যাত্যয় ঘটেছে। সিভিল সার্জনের কোন অনুমতি না থাকায় শনিবার থেকে লকডাউন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সামিউল হক বলেন, রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু সরকারিভাবে লকডাউনের সিদ্ধান না থাকায় লকডাউন স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মইনুল আহসন বলেন, লকডাউন দিতে হলে আমার লিখিত অনুমতি লাগবে। আমি কোন লিখিত অনুমতি দেইনি। এছাড়া লকডাউন করতে হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সিভিল সার্জন লিখিত অনুমতি দিলেই লকডাউনের ঘোষণা দিতে পারে স্থানীয় প্রশাসন। ধামরাই রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু লকডাইনের কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ বলেন, সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটি হয়েছে। তবে সরকারিভাবে যখন ঘোষণা করা হবে তখনই লকডাউন হবে।

শনিবার থেকে টানা ২১দিন লকডাউনের ঘোষণা করায় অধিকাংশ পৌরবাসী অন্তত সাতদিনের জন্য চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তরকারি, আটা, তেল, সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করেছে। আজ শুক্রবার ধামরাই বাজারে তিলধারনের ঠাই ছিল না এমন লোক সমাগম হয়েছিল। এতে অনেককে অতিরিক্ত মূল্য দিয়েই কিনতে হয়েছে নিত্যদিনের পণ্যসামগ্রী।