মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের সানাইল মৌজায় ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন। চলতি বোরো মওসুমে প্রায় ২০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। যে সময়ে কৃষক হাসিমুখে ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময়ে তারা ধান ক্ষেতে বসে আহাজারি করছে।

এ দিকে, উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই চকের ৩৩ জন কৃষকের প্রায় ২৪ থেকে ৩০ একর জমির আধা-পাকা ধান রনি ব্রিকস এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তারা এমন তথ্য পেয়েছেন। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে কৃষি অফিস শুধু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করতে পারবেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি পূরনে তাদের কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিন, গত সোমবার (১ জুন) ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সঙ্গেঁ কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে রনি ব্রিকস কর্তৃপক্ষ তাদের ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ সময় ওই ইটভাটার ছেড়ে দেয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় উত্তর পাশের জমিগুলোর আধা-পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রনি ব্রিক্স এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪ টি প্রজেক্টের ধান সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জনাব আলী, আবেদ আলী, আলমগীর ও রতন অভিযোগ করে বলেন, রনি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আমাদের সর্বনাশ হয়েছে। সারা বছরের খাবার ধোঁয়ায় পুড়ে জমিতেই শেষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে খাদ্য সংকটের আশংকা ও করছেন তারা। এ দিকে, ধানের পাশাপাশি ওই ধোঁয়ায় আখসহ অন্যান্য ফসলাদি ও নষ্ট হয়েছে।

অভিযুক্ত রনি ব্রিকস এর ম্যানেজার মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ইটভাটার ধোঁয়ার কারনে ফসল নষ্ট হয়নি। আবহাওয়াগত কারনে এ রকম হতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিসার টিপু সুলতান সপন ধান নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অসতর্কভাবে ইটভাটার আগুন নিভানোর কারনে ক্ষতিকর ধোঁয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, ইটভাটার মালিক অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরন দিবেন। না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।