সোমবার (১ জুন) থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে আকাশপথে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রুট কক্সবাজার বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে রাজশাহী, বরিশাল, যশোর রুটের ফ্লাইট চলাচলও। চলতি সপ্তাহেই কক্সবাজারসহ এই চার রুটের ফ্লাইট চলাচলের কথা ছিল। তবে ‘আপাতত’ চালু হচ্ছে না এই রুটের ফ্লাইট।

ফ্লাইট না চলার অন্যতম কারণ হিসেবে জানা গেছে, এই চার বিমানবন্দরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।

আইকাও’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে অবশ্যই চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব উপকরণ থাকতে হবে।

তবে জানা গেছে, কক্সবাজারসহ ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি না পাওয়া এই চার জেলার বিমানবন্দরে জরুরি মেডিকেল সুবিধা ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক নেই। এমনকি শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ব্যবহৃত থার্মাল স্ক্যানারও নেই। ফলে কোভিডের লক্ষণ-উপসর্গ দেখা দিলে তাকে প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিকিৎসক বরাদ্দ চেয়ে আগেই স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি দিয়েছিল বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে আপাতত সেসব জেলায় চিকিৎসক, অতিরিক্ত চিকিৎসক নেই বলে সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা কেন্দ্র স্থাপন করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান  বলেন, ‘আমরা দেখছি ডব্লিউএইচও এবং আইকাও’র নির্দেশনায় অনুযায়ী বিমানবন্দরগুলো প্রস্তুত হচ্ছে কি-না। তারা যখন নিশ্চিত করবে যে, তারা স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনাসমূহ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম, তখনই ফ্লাইট চলাচলের জন্য ওই বিমানবন্দরগুলোকে অনুমতি দেয়া হবে।’

বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ (ডমেস্টিক) বিমানবন্দর রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একমাত্র সৈয়দপুর বিমানবন্দর চিকিৎসক, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ সব শর্ত পূরণ করায় ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে।