ভারতীয় বাহিনীকে টহল দিতে দেখা যেত এমন ৬০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা চীন দখল করেছে বলে জানা গেছে। এই জায়গাগুলো পাংগোং লেক এবং গালওয়ান নদী এলাকায় সমানভাব্য বিন্যস্ত। গত মাসে ওই জায়গাগুলো দখল করে চীন।

সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় বাহিনীকে টহল দিতে এখন বাধা দিচ্ছে চীনা সেনারা। অথচ এই সব এলাকায় নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য বহু দশক ধরে সেখানে টহল দিয়ে আসছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এ সব জায়গার মধ্যে রয়েছে পিপি-১৪, ১৬, ১৮ ও ১৯।

সংবাদপত্র চীনের অনুপ্রবেশকে ১৯৯৯ সালের পাকিস্তানের কারগিল অনুপ্রবেশের পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে, কিন্তু এবার ঘটনা ঘটেছে চীনের দ্বারা, এবং ঘটনাস্থল হলো পূর্ব লাদাখ। গালওয়ান নদী এবং পাংগোং লেক এলাকাতে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে পিপলস লিবারেশান আর্মির সেনারা। ওখানে সীমানার তিন কিলোমিটার ভিতরে তারা শক্তি বৃদ্ধি করছে, যেখানে ভারতীয় সেনারা বহু দশক ধরে টহল দিয়ে আসছে এবং ওই এলাকাকে নিজেদের হিসেবে দাবি করে আসছে।

কারগিল অনুপ্রবেশের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনারা যেভাবে শ্রীনগর-জোজিলা-লেহ হাইওয়ের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং লাদাখকে উত্তর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল, তেমনিভাবে গালওয়ান নদী উপত্যকায় চীনা অনুপ্রবেশের কারণে কৌশলগত দারবুক-শায়ক-দৌলত বেগ ওলদি হাইওয়ের উপর পিএলএ সেনাদের নজরদারি জোরালো হয়েছে এবং কারাকোরাম গিরিপথের কাছে বিচ্ছিন্ন ‘সাব সেক্টর নর্থের’ সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একমাত্র যোগাযোগের পথটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘পিএলএ এই সড়কটি স্থায়ীভাবে দখল করতে চায়। চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যদিও ঘোষণা দিয়েছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে, এরপরও পিএলএ’র অনুপ্রবেশকারীরা বাঙ্কার তৈরি করছে এবং প্রকৌশলীরা তাদের অগ্রগামী সেনাদের সাথে চীনের সড়ক অবকাঠামোর সংযোগ তৈরি করছে।’

ফলে, পিএলএ’র বিভিন্ন পয়েটে অনুপ্রবেশের কারণে তাদের জবাব দেয়ার জন্য সেনা সঙ্কটে পড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী। নর্দার্ন সেনাবাহিনী যতক্ষণে সংরক্ষিত সেনাদের ওই এলাকায় নিয়ে গেছে, ততক্ষণে নতুন অধিকৃত অবস্থানে নিজেদের অবস্থান সংহত করে ফেলেছে পিএলএ।

নয়াদিল্লীর সেনা সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, লাদাখের শীর্ষ জেনারেলরা এই সময় ঘুমিয়ে ছিল যেন। লেহের সেনা কমাণ্ডার এবং উধামপুরের নর্দার্ন সেনা কমাণ্ডারকে বদলে দেয়ার বিষয়টি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।