রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে করোনা ইউনিটের পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

ইউনাইটেড হাসপাতাল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে ১৪ জুনের মধ্যে এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

গত ৩০ মে রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও ব্যারিস্টার শাহিদা সুলতানা শিলা।

মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতাল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে ১৪ জুনের মধ্যে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২৭ মে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে (মূল ভবনের বাইরে স্থাপিত) লাগা আগুনের ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- রিয়াজুল আলম (৪৫), খােদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মাে. মনির হােসেন (৭৫) ও মাে. মাহাবুব (৫০)। তারা সবাই হাসপাতালের আইসােলেশন ইউনিটে করােনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল সংলগ্ন মূল ভবনের বাইরে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে সম্ভবত শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন আইসোলেশন ইউনিটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় আবহাওয়া খারাপ ছিল ও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। বাতাসের তীব্রতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওখানে ভর্তি পাঁচজন রোগীকে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। তারা ভেতরে মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই আইসোলেশন ইউনিটে পাঁচজনের সবাই করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে দমকল বাহিনী তদন্ত করছে এবং ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্ণ সহায়তা করছে।