স্টাফ রিপোর্টার : মাদারীপুর সদর মডেল থানার এসআই প্রশিক্ষণকালীন অনিমা বাড়ৈকে গত ৫ এপ্রিল রাতে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করেন তার কথিত এক প্রেমিক। ৪২ দিন পর সোমবার (১৮ মে) রাত দেড়টার দিকে সাভার উপজেলার তেঁতুলজোড়া ইউনিয়নের যাদুরচর এলাকা থেকে কথিত প্রেমিক জাকির/বাতেন/রনবীরকে গ্রেপ্তার করেছে মাদারীপুর পুলিশ।

কথিত প্রেমিক জাকির নাম বাদ দিয়ে বাতেন ও রনবীর নাম ব্যবহার করতো অনিমার কাছে। কথিত প্রেমিক গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার শিমুলবাড়ী এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মাহবুব হাসান এই তথ্য দেন। মাদারীপুর পুলিশ সুপার জানান, কথিত প্রেমিক ঘাতক একজন মুসলিম তার নাম জাকির হোসেন সে নাম পরিবর্তন করে অনিমার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে, যখন অনিমা জানতে পারে সে মুসলিম, তার সাথে প্রতারণা করছে তখন তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এই জাকির হোসেন/ বাতেন/ রনবীর। এরপর কৌশলে অনিমাকে শকুনিলেক পাড়ের দৃশ্য মোবাইলে দেখবে বলে লেক পাড় নিয়ে আসে। তবে কথিত প্রেমিক জানিয়েছিল সে ঢাকা তাই মোবাইলে দেখবে কিন্ত কথিত প্রেমিক আগে থেকেই ওৎ পেতে ছিল অনিমাকে হত্যা করার জন্য এবং লেক পাড় আসার সাথে সাথে পিছন থেকে তাকে ধরে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে এবং মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হয়ে কথিত প্রেমিক পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় লোকজন আহত অনিমাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। রাতেই তার গলায় অপারেশন হয়। ঐসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও এক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার ছোট ভাই কপিল বাড়ৈ মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন।

এরপর মাদারীপুর সদর মডেল থানার এসআই সুমন কুমার আইচ বিভিন্নসময় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে আসামীর শ্যালক নাইমকে আটক এরপর তার তথ্যেও ভিত্তিতে ঐ ঘটনার ৪২ দিন পর ঢাকা জেলার সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকা থেকে আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেফাতার করে।

উল্লেখ্য, অনিমা বাড়ৈর বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার ভাঙ্গারহাট এলাকায়। গত ৪ মাস পূর্বে অনিমা বাড়ৈ মাদারীপুর সদর মডেল থানায় পিএসআই হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে অনিমা বাড়ৈ সুস্থ্য হয়ে মাদারীপুর মডেল থানা যোগদান করে উিউটি করছে।