গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর শহরের কোনাবাড়ি এলাকায় হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এক পোশাক শ্রমিক এক দম্পতি। পরে সন্তান বিক্রির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তারা। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে এলে তিনি ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে ওই শিশু সন্তানটিকে ফিরিয়ে দিয়েছে মায়ের কোলে।

ওই তরুণ দম্পতি গাজীপুরের এনায়েতপুর এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কারখানা বন্ধ থাকায় তারা দুই মাস ধরে বেতন পাননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

কোনাবাড়ি থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ১৮ বছর বয়সী ওই প্রসূতিকে গত ২১ এপ্রিল কোনাবাড়ি এলাকার বেসরকারি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করান তার স্বামী। অস্ত্রোপচারে ওই দিনই তাদের ছেলের জন্ম হয়। সেখানে ১১ দিন থাকার পর তারা জানতে পারেন, হাসপাতালে তাদের ৪২ হাজার টাকা বিল হয়েছে।

“কিন্তু দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তাদের হাতে টাকাও ছিল না। বিষয়টি জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু ছাড় দিলেও ১৯ হাজার টাকা দিতে বলে। তারা সেই টাকাও জোগাড় করতে পারেননি।

আরও পড়ুন >> মন্ত্রীর গানম্যান কিশোর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম সন্দেহেই বন্ধুকে গুলি করে

“অনেক চেষ্টা করে তারা চার হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে নারাজ ছিল। টাকা জোগাড় করতে না পেরে তারা নবজাতককে কাশিমপুরের রওশন মার্কেট এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।”

ওসি বলেন, এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেনও বিষয়টি জানতে পারেন। “শুক্রবার দুপুরে তিনি ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনেন, তুলে দেন মায়ের কোলে।”

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার এসএম জিকরুল হাসান জিকু সেই খবর শুক্রবার ফেইসবুকে জানালে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন >> গাজীপুরে মা ও তিন সন্তান হত্যায় ধর্ষণে বাবা-ছেলে মিলে অংশ নেয়. রোমহর্ষক বর্ণনা

এসএম জিকরুল হাসান জিকু সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টা পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (এসবি) স্যারের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার স্যারের নলেজে আসে। শুক্রবার তিনি টাকা দিয়ে নবজাতককে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।”

পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগে খবর পেলে হাসপাতালের বিল আমি পরিশোধ করে দিতাম। পরে দত্তক নেওয়া দম্পতিকে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে নবজাতকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া শিশুটির লালন-পালনের জন্য তাদের আরও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”