গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে শ্রীপুরে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা লুঠ করতে গিয়ে ফাতেমা ও তার তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যা ও ধর্ষণ করে বলে স্বীকার করেছে গ্রেফতার কিশোর পারভেজ ও তার বাবা কাজিমুদ্দিন। গত বুধবার রাতে জৈনাবাজার আবদার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের কাছে নৃশংস এ হত্যার বর্ণনা দিয়েছে তারা।

বুধবার অনলাইনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

গত বুধবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসী রেদোয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী ও তার তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তারা হলেন- ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক স্মৃতি আক্তার ফাতেমা, তার বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা, ছোট মেয়ে হাওরিন হাওয়া ও বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল। হত্যার আগে মা ও দুই মেয়েকে ধর্ষণও করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আজ পাঁচজনকে আটক করে র‍্যাব। এরা হলো- কাজিমদ্দিন (৫০), হানিফ (৩২) বশির (২৬) হেলাল (৩০) ও এলাহি মিয়া (৩৫)।

আরও পড়ুন >> মন্ত্রীর গানম্যান কিশোর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম সন্দেহেই বন্ধুকে গুলি করে

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, গ্রেফতাররা সবাই মাদকাসক্ত। তারা চুরি, জুয়া ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পেশায় এরা কেউ রিকশা চালক, কেউ ছোটখাটো কাজ করে। এরা সবাই ভিকটিমের বাসার কাছে আড্ডা দিতো। ঘটনার কিছুদিন আগে তারা জানতে পারে ভিকটিম ফাতেমার স্বামী কাজল মালয়েশিয়া থেকে ২০/৩০ লাখ টাকা পাঠিয়েছে হুন্ডির মাধ্যমে। তারা সবাই সেই টাকা লুট করার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল তারা ফাতেমার বাসার পেছনে জড়ো হয়। পারভেজ প্রথমে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। অন্যদিকে হানিফ ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে চিলেকোঠায়। এরপর তারা বাসার গেট খুলে দিলে পারভেজের বাবাসহ অন্যরা বাসায় ঢুকে পড়ে।

হানিফ ও কাজিমুদ্দিন প্রথমে ফাতেমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তার কাছ থেকে হুন্ডির পাঠানো ২০/৩০ লাখ টাকা চায়। এরকম কোনো টাকা পাঠানো হয়নি বলে জানান ফাতেমা এবং বাসায় থাকা ৩০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেন। এসময় তারা দু’জন ফাতেমাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে।

আরও পড়ুন >> গাজীপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত

এদিকে অন্য ঘরেও চলে লুটপাট ও ধর্ষণ। পারভেজ ও তার বাবা কাজিমুদ্দিনসহ সবাই বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা (১৬) ও ছোট মেয়ে হাওরিনকে (১৩) ধর্ষণ ও হত্যায় অংশ নেয়। তবে প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিলকে হত্যা করা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তারা। এক গ্রুপ তাকে হত্যা করতে না চাইলেও অন্য অংশ সাক্ষী না রাখার পক্ষে মত দেয়। পরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকেও হত্যা করে।

এ ঘটনায় আরো ৪/৫ জন জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়ে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

আরও পড়ুন >> গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

সারোয়ার বিন কাশেম আরো জানান, এর আগে পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার পারভেজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। সেখানে সে এ ঘটনায় একাই জড়িত বলে স্বীকার করে। এর পেছনে কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। পারভেজ এর আগেও এক শিশুকে ধর্ষণের পর খুন করে। ওই ঘটনায় সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জামিনে ছাড়া পায়। এবারো সে একই ধরনের ঘটনায় জড়ায় তার বাবাসহ অন্যদের নিয়ে। সে ভাবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলে এবারো সে ছাড়া পাবে। হয়তো এমনটা চিন্তা করেই বাবাসহ অন্যদের বাঁচাতে সে নিজের কাঁধে সব দোষ নেয়।