গাজীপুর প্রতিনিধি : চুরি করা দেখে ফেলায় মা ও তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন গ্রেফতার পারভেজ। সোমবার বিকেলে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরীফুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

রোববার রাতে জেলার শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পারভেজ একই গ্রামের কাজিম উদ্দিনের  ছেলে। এ সময় তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে রক্তমাখা কাপড়, মাটিচাপা দেয়া মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক হাফিজুর রহমান।

২২ এপ্রিল আবদার গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসী রেদোয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী ও তার তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তারা হলেন- ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক স্মৃতি আক্তার ফাতেমা, তার বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা, ছোট মেয়ে হাওরিন হাওয়া ও বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল।

আরও পড়ুন >> শিশু ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পার পেয়ে ‘ফোর মার্ডারে’ পারভেজ

পিবিআইয়ের পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা-সন্তানদের খুনের কথা স্বীকার করলে আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি নেয়া হয়। দুই মাস আগেও পারভেজ নিহতের এক সন্তানকে উত্ত্যক্ত করতে গিয়ে ধরা পড়েন। পরে ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পান।

তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল মা ও মেয়ের স্মার্টফোন চুরি করতে কাজলের দোতলা বাড়ির দেয়াল টপকে ছাদে ওঠেন পারভেজ। নিজের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে ছাদে কাপড় শুকানো রশি কাটেন।

হাফিজুর বলেন, রশি কাটার পর ছাদের গ্রিলের সঙ্গে রশি বেঁধে দোতলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরে ঢোকেন। পরে নূরা ও হাওরিনের রুমের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকেন। তখন নূরার কানে হেডফোন ছিল। ছোট বোন হাওরিন ঘুমিয়ে ছিল। এক ঘণ্টা পর সবাই ঘুমিয়ে গেছে ভেবে রান্নাঘর থেকে বটি নিয়ে দোতলায় যান পারভেজ। মোবাইল নেয়ার জন্য নূরার মায়ের কক্ষের দরজার লক খোলার চেষ্টা করেন।

এ সময় দরজা খোলার শব্দে নূরার মা জেগে ওঠেন। তিনি বাথরুম ও আশপাশে কেউ আছে কিনা খোঁজেন। এ সময় ফাতেমা তাকে দেখে চিনে ফেললে চিৎকার দিতেই কুপিয়ে হত্যা করেন। তখন নূরা শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকেও বটি দিয়ে কোপান ওই যুবক।

আরও পড়ুন >> মন্ত্রীর গানম্যান কিশোর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম সন্দেহেই বন্ধুকে গুলি করে

পিবিআইয়ের পরিদর্শক বলেন, কিছুক্ষণ পর নূরার ছোট ভাই ফাদিল জেগে উঠলে তার মাথায় কোপ দেন পারভেজ। এতে ফ্লোরে পড়ে গেলে প্রথমে তাকে গলা কেটে নূরার খাটের নিচে রাখেন। এরপর হাওরিন ঘুম থেকে জেগে চিৎকার দিলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীতে নূরাকে ধর্ষণ করেন তিনি। নূরার মাকে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে হাওরিনকেও ধর্ষণ করেন। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সবার গলা কেটে দেন।

পরিদর্শক হাফিজুর আরো বলেন, হত্যা শেষে নূরার মায়ের গলায় স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নাকফুল খুলে নেন। হাওরিনের কান থেকে দুইটি স্বর্ণের রিং খুলে নেন। আলমারি খুলে দুইটি স্বর্ণের চেইন, আংটি, একটি ডায়েরি, নূরার মায়ের রুম থেকে দুইটি মোবাইল নেন পারভেজ। মোবাইল ও স্বর্ণালংকার পায়জামার পকেটে রাখেন। এরপর হাত-মুখ ধুয়ে নিজের বাড়িতে চলে যান তিনি।