ভালোবেসে নিজেকে একবার স্যরি বলুন

0
47

কে আপনাকে দুঃখ দিচ্ছে? এই প্রশ্ন করলে হয়তো আপনি অনেকের নাম বলতে পারবেন। কেউ হয়তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, সম্মান করছে না, হয়তো ইভটিজিং করছে, কিংবা দুঃখ দিচ্ছে। খুব কাছের মানুষটাও হয়তো আর আগের মতো ভালোবাসছে না। 

আপনি কষ্ট পেলে এদের কারোরই কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। ক্ষতি যা হচ্ছে তা একমাত্র আপনার। তাই এই ভালোবাসা দিবসে নিজেকে এবার স্যরি বলুন। 

আরও পড়ুন : কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভুগছেন? প্রতিকারের উপায় ভুট্টা

কেন নিজেকে স্যরি বলবেন?

আপনি রাগ করলে শুধু আপনারই ক্ষতি হয়, অন্য কারও নয়। নিজে নিজের কোনো ক্ষতি করলেও তার জন্য আপনাকে স্যরি বলতে হবে। তা না হলে আপনার শরীর আপনাকে ক্ষমা করবে না। বাঁধিয়ে দেবে নানা ধরনের অসুখ। বিজ্ঞান এ কথা প্রমাণ করেছে।

রাগ পুষে রাখবেন না
 
রাগ আপনার শরীর থেকে সব বন্ধু হরমোনগুলোকে এক এক করে মেরে ফেলে। তাই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এ কারণে ব্লাড প্রেশার বাড়ে, ডায়াবেটিস বাড়ে। এছাড়া অনিদ্রা, বদহজম, মাইগ্রেনসহ প্রায় ৭০/৭৫ ধরনের রোগের প্রধান কারণ আপনার রাগ আর দুশ্চিন্তা। এ সব থেকে বাঁচতে হলে রাগ পুষে রাখা চলবে না।    

আপনি ভিখারি নন

মনে রাখবেন আপনি ভিখারি না। তাই কখনোই অন্যদের- স্যরি বলো, স্যরি বলো করবেন না। আপনিই ক্ষমা করে দেবেন। আপনার হৃদয় সব থেকে বড়। দুই হাতে ক্ষমা দান করবেন, কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই। 

কীভাবে নিজেকে স্যরি বলবেন?

প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানায় শান্ত হয়ে বসুন। মেরুদণ্ড সোজা রাখুন এবং বড় করে নাক দিয়ে দম নিন, আর মুখ দিয়ে ছাড়ুন। আস্তে আস্তে পেট ভরে দম নিন আবার আস্তে আস্তে দম ছাড়ুন। দম নেওয়ার চেয়ে দম ছাড়ায় একটু বেশি সময় নিন। এভাবে ১০ বার করুন।  

আরও পড়ুন :কম খরচে ‘ভ্যালেনটাইন ডে’ কাটানোর দারুণ কৌশল!

এরপর যাদের কথায় সারাদিন দুঃখ পেয়েছেন তাদের নাম ও মুখ এক এক করে মনে করুন আর হাসুন। প্রয়োজন হলে জোরে জোরে হাসুন। নিজের গাধামির জন্য হাসতে শিখুন। আর নিজেকে স্যরি বলুন।   

নিজের চিন্তার ব্যাপারে সচেতন হন

আপনার চিন্তাগুলোই যত গণ্ডগোলের মূল। সে ই জেনেবুঝে আপনার জন্য দুঃখ তৈরি করে। তাই কী চিন্তা করছেন তার ব্যাপারে সচেতন হন। এই সচেতনতাই পারে আপনাকে মুক্তি দিতে। স্বচেতনাই হচ্ছে প্রকৃত মুক্তি। কারণ, সুখ কোনো কিছু পাওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়, নিজের সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।  

লেখক : জোবায়ের রুবেল, হ্যাপিনেস স্পিকার।