পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা

0
36

লোকসান ঠেকাতে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে এমনকি যেকোনও প্রতিকূল পরিবেশে জ্বালানি পরিবহন, পরিচালনা ও সরবরাহ ঠিক রাখতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ট্যাংকার, নৌকা বা রেলের বগির পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি নিয়ে আসার বিষয়টি সরকারের ভাবনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এ জন্য ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পাইপলাইন প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

আরো পড়ুন : বসন্ত এসেছে ভালোবাসার চাদর বিছিয়ে

কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তারাঞ্চলে জ্বালানি তেল পরিবহন সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। সময় ও  আর্থিক ব্যয় কমবে। এছাড়া এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিবেশবান্ধবও হবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে।

ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের শিলিগুড়িরমার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার (এর মধ্যে ভারেতর অংশ ৫ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ অংশ ১২৫ কিলোমিটার) দীর্ঘ ১০ ইঞ্চি ব্যাসের  ভূগর্ভস্থ পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ অংশের ভূমি অধিগ্রহণ, হুকুম দখল ও রিসিভিং টার্মিনাল নির্মাণ করতে এ প্রকল্পে অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে ১২৫ কিলোমিটার পাইপলাইন মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

সূত্র জানায়,  রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলা সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা, দেবীগঞ্জ থেকে শুরু করে নীলফামারী জেলা সদর, সৈয়দপুর, দিনাজপুর জেলার খানসামা, চিরিরবন্দর হয়ে পার্বতীপুরের নিচ দিয়ে বসবে এই পাইপলাইন।  চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ২০২২ সালের ৩০ জুনে। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা, যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর অধীন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) কর্তৃক বিপিসি’র নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য আলোচ্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় আলোচ্য প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরো পড়ুন : ৩৮ জেলায় প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য ১৮৭ দশমিক ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ১২৬ দশমিক ১৪ একর জমি হুকুম দখল করা হবে। এছাড়া সৈয়দপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহের  জন্য আরও ১২ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ৮ একর জমি হুকুম দখল করা হবে। একইসঙ্গে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন (আইবিএফপিএল) প্রকল্পের ট্যাপ অব পয়েন্ট, সোনাপুকুর চিরিরবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার ৮ ইঞ্চি ব্যাসের ভূগর্ভস্থ পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ক্রয় ও স্থাপন করা হবে। পাইপলাইন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রগুলো তথা পাম্প, মিটার, ফিল্টার ইত্যাদি কেনা হবে। পার্বতীপুর ডিপোতে প্রকল্পের রিসিভ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৬ হাজার ৭৬১ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ছয়টি ট্যাংক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় অপটিক্যাল ফাইবার সম্বলিত স্ক্যাডা স্থাপন, পরিচালন ও কমিশনিং করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সময় সাশ্রয়, রাজস্ব  আহরণ বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থান বাড়বে, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে পরিবেশের ওপর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে না। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব বাড়বে এবং সময় কমবে। কর্মসংস্থান বাড়বে বিধায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে।’ এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বরেন,‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে যেকোনও অনিশ্চয়তা দূর হবে।’