জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগ থেকে মাঝে মাঝে তার সোনালী ঐতিহ্য হারিয়ে যায়। তারপরেও আমার আশা-ভরসা সবসময় ছাত্রলীগের ওপরেই থাকে। আশা করি ২০২০ এ জাহাঙ্গীরনগরে এক নতুন ছাত্রলীগের জন্ম হবে। বুধবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল শাখা ছাত্রলীগের উদ্যেগে প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার’ এর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আরো পড়ুন : জাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

উপাচার্য বলেন, ‘ছাত্রলীগ হবে সোনার ছেলেদের সংগঠন। ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদেরকে দেখলেই যেন সবাই আস্থা পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তার বাস্তবায়ন কোন ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কারণে থেমে থাকবেনা।’

এসময় গত ৫ নভেম্বর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলা এবং উপাচার্যকে ‘মুক্ত’ করার ঘটনাকে স্মরণ করে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আরো বলেন, ‘মেয়েরা ছাত্রলীগকে দেখলে যেন ৫ তারিখের কথা না ভাবে। কেন মেয়েরা ছাত্রলীগের ছেলেদের ভয় পাবে? কেন এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠনে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এত কম।’ ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগার উদ্বোধনকালে ছাত্রলীগ নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি হলে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

আরো পড়ুন : জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ফের বিক্ষোভ

পাঠাগার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান রিজু বলেন, ‘আমাদের হলে কোন পাঠাগার নেই। এছাড়া হলে পড়ার মত তেমন কোন জায়গাও নেই। পাশাপাশি আমরা এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং নামকরণের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তরুণ সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। তারা যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্যে। আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যেগে প্রতি হলে এ ধরনের পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

পাঠাগার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, আল বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জুয়েল রানা, আল বেরুনী হল শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান (রিজু), এনামুল হক এনাম প্রমুখ।