সরকারি চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এখন ডোপ (মাদকদ্রব্য) টেস্টও শুরু হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) একটি শাখা বর্তমানে সীমিত পরিসরে ডোপ টেস্টের কাজ করছে। তবে ডোপ টেস্টের জন্য যেসব সরঞ্জাম থাকার কথা সেটা এখনও কেনা হয়নি। এদিকে আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগেও এই ডোপ টেস্ট করার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের। তবে দ্রুত সরঞ্জাম ও জনবল না বাড়ালে এ প্রক্রিয়া সফল হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন : ফেসবুক-গুগল-ইউটিউবের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উপায় হচ্ছে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শাখায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে ডোপ ডেস্টের জন্য। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই ডোপ টেস্টে মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ সাত দিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ দুই মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ১২ মাস এবং স্প্যাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ মাদক গ্রহণ করলেও তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। কিন্তু বর্তমানে শুধু ইউরিন (মূত্র) পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি শেষ ১০ দিনের ভেতর কোনও মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। মাদকদ্রব্য আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪(৪) বাস্তবায়নের জন্য জরুরিভিত্তিতে কমপক্ষে একটি অটোমেটিক ইউরিন (মূত্র) অ্যানালাইজার কেনা জরুরি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এতোদিন ডোপ টেস্টের জন্য কোনও ফি নির্ধরিত ছিল না। গত ১৫ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ৯০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়। নন স্পেসিফিক পরীক্ষার জন্য ৬০০ টাকা (যার মধ্যে বেঞ্জোডায়াজেপিন, এমফেটামাইনস, অফিয়েটস ও কেননাবিনেয়েডস পরীক্ষাও রয়েছে) এবং অ্যালকোহল পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। শুধু সরকারি চাকরি নয়, বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গত ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবহন কর্মীদের আপত্তির মুখে বাস মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান থেকে আপাতত পিছিয়ে আসে। সেটা কবে নাগাদ শুরু হবে সেটাও সংশ্লিষ্টরা বলতে পারছেন না।

আরো পড়ুন : দেশ দুর্নীতি-সন্ত্রাসের কাছে পরাধীন: গণপূর্তমন্ত্রী

সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল গত ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্ট করা হবে। কিন্তু এখনও শুরু হয়নি। এটা হওয়া দরকার। এতে মালিক-শ্রমিক সবারই মঙ্গল। মাদক তো পরে, বাসের মধ্যে সিগারেট খেতেও চালক-হেলপারদের নিষেধ করা হয়েছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিভাগের পরিচালক এস এম জাকির হোসেন বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য আমরা নতুন প্রজেক্ট করছি। নতুন মেশিনপত্র আমদানি করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে প্রজেক্টের কাজ শেষ হবে। সেটা হলে দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির বিষয়টি নির্ধারণ করা যাবে। এখন যে প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাতে গত তিন মাসের মাদকাসক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষার রেজাল্টও পাওয়া যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে।  

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত যারা মাদক গ্রহণ করে তারা লাগাতার তিন মাস মাদক ছাড়া থাকতে পারে না। আর যিনি তিন মাস মাদক ছাড়া থাকতে পারেন, তিনি সবসময় মাদক ছাড়া থাকতে পারবেন। বর্তমানে যে টেস্ট করা হচ্ছে সেটা একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো টেস্ট নয়।’

পর্যায়ক্রমে ডোপ ডেস্ট বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে ডোপ টেস্ট চালুর ব্যাপারে এরই মধ্যে অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত অফিসিয়াল অনুরোধের ভিত্তিতে ২০৪ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ডোপ টেস্ট করা হয়েছে।’