সৌদি আরবে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের কোন ধরণের অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিছু সংগঠণ সম্প্রতি সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবী তুলে আসছে। তবে সরকার বলছে, শ্রমিকদের সুরক্ষার দিকেই তারা নজর দিচ্ছেন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নারী কর্মী যতদিন কর্মরত থাকবেন, ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সি (নিয়োগকারী সংস্থা) বহন করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে সকল নারী কর্মী কাজ ত্যাগ করে পলাতক হয়েছেন, তাদেরকে পুলিশ কোনোভাবেই নিয়োগকর্তার কাছে কাছে হস্তান্তর করবে না। নারী কর্মীরা কর্মকাল পূর্ণ করলে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বহন করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।’

সম্প্রতি গৃহকর্মী হিসেবে বাংলাদেশ সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো শুরুর পর থেকে সেদেশে গৃহকর্তার হাতে নানা ধরনের নির্যাতনের খবর আসতে থাকে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না।

এ বছর জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৮৫০ জন নারী দেশে ফিরে আসার পর তাদের মুখে সেখানে যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে আসার পর বিভিন্ন নারী সংগঠন সরব হয়।

দেশটিতে নারী কর্মী না পাঠানোর দাবি জোরেশোরে ওঠার পর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আলোচনায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সৌদি আরবে আর কোনো নারী গৃহকর্মী না পাঠানোর দাবি তোলেন।

এমন প্রেক্ষাপটে গত ২৭ নভেম্বর রিয়াদে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কারিগরি কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ সচিব সেলিম রেজা ও সৌদি আরবের পক্ষে শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার জাবের আব্দুল রহমান আল মাহমুদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

সেখানে প্রবাসী নারী কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ওই সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরতেই সোমবার সাংবাদিকদের ডাকা হয়।

এখন থেকে সৌদি আরবে কোনো নারী গৃহকর্মী পাঠানোর আগে বাংলাদেশ গৃহকর্তার পারিবারিক বিষয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ খতিয়ে দেখবে বলে জানান যুগ্ম সচিব জাহিদ।