জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীর সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর এক অভিযোগপত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আকবর আলী। অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম ব্যাচের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন >> জাবির হল খুলে দেওয়াসহ ৭ দফা প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের

আজ সোমবার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বরাবর লিখিত ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক্স এর সত্ত্বাধিকারী ফটোগ্রাফি ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে শুধু ক্যাম্পাসে বসবাসকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের জরুরি প্রয়োজনে কিছু কার্যক্রম চালু রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক এবং উপ-রেজিস্ট্রার নাহার বেগমের ব্যক্তিগত ছবির কাজ করার জন্য রবিবার বিকাল ৩টারদিকে দোকানটি খোলা হয়। এ সময় সেখানে (মূল ফটকে) নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন উপস্থিত হলে তাকে জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি ব্যাখা করা হয়। কিন্তু সুদীপ্ত শাহীন কথা না শুনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

আরও পড়ুন >> উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে আড়াই যুগ ধরে অস্থির জাবি

ঘটনার সময় উপস্থিত ১৯তম ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনকে অনুরোধ করে বলেন, আকবার আলী যেহেতু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তাই তাকে গালি না দিয়ে ভালো ব্যবহার করেন। তখন তিনি তার (সহকারী অধ্যাপকের) পরিচয় জানতে চান। সহকারী অধ্যাপক রাজ্জাক নিজের পরিচয় দেওয়ার পর সুদীপ্ত শাহীন ‘প্রাক্তন ছাত্র’ শুনেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এবং তিনি ক্যাম্পাসে বসবাস করেন এটা শুনে তার বাক্যটি ছিলো, ‘তুই তোর বউয়ের পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে থাকিস, লজ্জা করে না?’

এক পর্যায়ে শাহীন হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোকে লাঠিপেটা করতে না পারায় আমার হাত নিশপিশ করছে এবং পরবর্তীতে তোকে ক্যাম্পাসে যেখানে পাবো সেখানে পুতে ফেলবো।’ এ ঘটনার পর আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

আরও পড়ুন >> জাবিতে দুই যুগে আন্দোলনে পদত্যাগ করেছেন ৮ ভিসি

অভিযোগপত্রে আকবর আলী আরো উল্লেখ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার সংশ্লিষ্ট যেসকল দোকান বন্ধ থাকার কথা তা এর মধ্যে পড়ে না। তাছাড়া প্রশাসন থেকে দোকান বন্ধের কোনো নোটিশ আমার হাতে আসেনি। এ অবস্থাায় আমি আমার ব্যবসা পরিচালনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহীনের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন বলেন, ‘রবিবার বিকেলে ডেইরি গেটে আমরা টহলে যাই। কনফেকশনারীর দোকান খোলা দেখে সেখানে যাই। প্রশাসনের নির্দেশনা থাকার পরও দোকান খোলার কারণ জানতে চাই দোকানদারের কাছে। এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি দোকানদারের সঙ্গে আমাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে আমি সেই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাই। সে নিজেকে সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে আমি টহল নিয়ে চলে আসি।’

আরও পড়ুন >> জাবি ভিসি ও রাব্বানী চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পরস্পরকে দায়ী করছেন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে রিকশাচালক, বহিরাগতদের মারধর, গণমাধ্যমকর্মীকে উত্ত্যক্তসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছিল।