চাপ তৈরির শেষ সুযোগ এবারের জলবায়ু সম্মেলনে

0
26

আজ সোমবার থেকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে জাতিসংঘের আয়োজনে দুই সপ্তাহব্যাপী জলবায়ু সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বলা হচ্ছে, কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা কপ নামে পরিচিত এ বছরের সম্মেলন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯

জাতিসংঘের আয়োজনে প্রতিবছরই জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু সব কপই সমান গুরুত্ব পায় না। তবে ‘কপ২৫’ নামে পরিচিত এবারের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি কারণে এবারের জলবায়ু সম্মেলনকে একটু আলাদাভাবেই দেখছে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব দেশকে ‘ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, হাতে আছে আর মাত্র এক বছর। ফলে যেসব দেশ এখনও এই কাজ শেষ করতে পারেনি, তাদের ওপর চাপ তৈরির শেষ সুযোগ এবারের সম্মেলন।

আরো পড়ুন : বিয়ের ফাঁদে ফেলে সেই ভয়ঙ্কর খুনিকে আটক

প্যারিস চুক্তিতে দেশগুলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পযুগের (১৮৫০-১৯০০) চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টার কথাও বলা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবারের সম্মেলনে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে বলে মনে করছেন ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের প্রধান অ্যান্ড্রু স্টিয়ার। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও শহর ‘ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টও ইউরোপে ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি বিল ৪২৯-২২৫ ভোটে পাস হয়েছে।

তবে এই বিলে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়নি। শুধু প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই এবার দেখার বিষয়, কপ২৫ এসব বিষয়ে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পারে।

জানা গেছে, কপ২৫-এ যোগ দিতে জলবায়ু আন্দোলনের আলোচিত কিশোরী গ্রেটা টুনব্যার্গ নিউইয়র্ক থেকে পাল তোলা নৌকায় করে ইউরোপে ফিরছেন। শুক্রবার তার লিসবন পৌঁছার কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য এখনও আসতে পারেননি। তবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি তিনি ইউরোপে ঢুকতে পারেন বলে জানিয়েছে তার দল।

বৈশ্বিক বিপর্যস্ত জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদরা যথেষ্ট কাজ করছেন না বলে গতবছর থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন সুইডিশ শিক্ষার্থী গ্রেটা টুনব্যার্গ। প্রতি শুক্রবার স্কুলে না গিয়ে সুইডিশ সংসদের সামনে বসে আন্দোলন করতেন তিনি। তার এই আন্দোলন একসময় সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তার এ ভূমিকার কারণে এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারকে ঘিরে গ্রেটার নামটি বেশ আলোচিত হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত নোবেলের দেখা পাননি তিনি।

এদিকে স্পেনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের ২৫তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মাদ্রিদ টোরেজন বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

কপ-২৫ নামে পরিচিত ২৫তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৫তম বার্ষিক সম্মেলন (ইউএনএফসিসিসি), কিয়োটো প্রটোকলের (সিএমপি১৫) ১৫তম সভা এবং প্যারিস চুক্তির পক্ষগুলোর দ্বিতীয় সভাকে (সিএমএ২) অন্তর্ভুক্ত করবে। সম্মেলনের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন চিলির পরিবেশ মন্ত্রী মিজ ক্যারোলিনা স্মিদভ জালদিভার।

এ সম্মেলনে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কর্মসূচির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসব পদক্ষেপ গত বছর পোল্যান্ডের ‘সিওপি ২৪’-এ প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের নির্দেশনার ভিত্তিতে নেয়া হবে। এসব নির্দেশনার প্রধানতম হচ্ছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পরিপূর্ণ কার্যকারিতার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের নিষ্পত্তি করা।

সম্মেলনটি এ বছর নভেম্বরে ব্রাজিলে হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিকল্পনা শুরুর এক বছর আগেই নবনির্বাচিত সভাপতি জেইর বোলসোনারো অর্থনৈতিক মন্দার কারণ দেখিয়ে স্বাগতিক হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে স্বাগতিক চিলি এগিয়ে আসে। কিন্তু বৈঠকের আগে সামাজিক অস্থিরতার ফলে ২০১৯’র অক্টোবরের শেষের দিকে চিলিও স্বাগতিক হওয়া থেকে সরে যায়। পরে জাতিসংঘ, চিলি এবং স্পেনের পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে স্পেন এর স্বাগতিক হয়।