আগামী ৫ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘অবিকৃত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন’ উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে পুলিশ ছাড়া রাজপথে আসারও আমন্ত্রণ জানান তিনি। সোমবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন : খালেদার অসুস্থতা চরম অবনতির দিকে : রিজভী

সুপ্রিম কোর্টে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরার দাবি জানিয়ে আব্বাস বলেন, ‘আগামী ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হবে। আমরা চাই, ওইা প্রতিবেদন যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় উপস্থাপন করা হোক। অবিকৃত অবস্থায় উপস্থাপন করা হোক। পরিবর্তন যেন না করা হয়। তাহলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার সঙ্গে এখন আর দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সন্দেহ হচ্ছে, চিকিৎসার নামে তার অপচিকিৎসা করা হচ্ছে কিনা, ক্ষতি করার জন্য। খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে তার হিসাব জনগণ পাই পাই করে নেবেন।’

আরো পড়ুন : অন্ধকারের পরেই আসবে নতুন ভোর : ফখরুল

পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগকে রাজপথে নামার আমন্ত্রণ জানিয়ে ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করার আগেই তো আপনারা ভয় পেয়ে গেছেন। গ্রেফতার শুরু করে দিয়েছেন। আপনারা যে দাঁতভাঙা জবাব দেবেন, কামড় দেওয়ার সেই দাঁতগুলো কি আপনাদের আছে? আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে দিতে চাই, ছোট্ট একটি মটরশুটিতেও কামড় দেওয়ার যোগ্যতাও আওয়ামী লীগের নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি ছাড়া একমিনিটও ক্ষমতায় থাকার ক্ষমতা নেই তাদের। সেই ক্ষমতা আওয়ামী লীগের আর নেই। বেশি কথা বলা ঠিক নয় কাদের সাহেব। গ্রেফতারের ভয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা গর্তে লুকিয়ে থাকে না। আমাদের ভয়ের কিছু নাই। পুলিশ ছাড়া আপনাদের ক্ষমতায় থাকার কোনও উপায় নেই। দল দিয়ে আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে, সেই আওয়ামী লীগ এখন আর নেই। শেখ মুজিবের আমলে যে আওয়ামী ছিল, সেই আওয়ামী লীগের কথা এখন আপনারা ভুলে যান। সেই আওয়ামী লীগকে আপনারা অনেক আগেই কবর দিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ ছাড়া রাজপথে আসেন।’

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।