দেশি ফল কদবেল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। পুষ্টি বিচার করলে কদবেলের জুড়ি নেই। বাজারে এখন চোখে পড়বে নানা আকারের কদবেল। রাস্তার দু‘ধারে বিক্রি হচ্ছে এই ফল, গন্ধে মাতাল করে রাখে চারদিক। আর পুষ্টিগুণ? কথায় আছে, কদবেল খেলে ওষুধের খরচ কমে। টক স্বাদের এ ফলের খাদ্যশক্তি কাঁঠাল ও পেয়ারার সমান। আমিষের পরিমাণ একটি আমের চেয়ে সাড়ে ৩ গুণ, কাঁঠালের দ্বিগুণ, লিচুর চেয়ে ৩ গুণ, আমলকী ও আনারসের চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি।

আরো পড়ুন : মুখে ছোট ছোট তিল? দেখুন স্থায়ীভাবে দূর করার উপায়

কদবেলে কী আছে?

প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলের পুষ্টিমান পানীয় অংশ ৮৫.৬ গ্রাম, খনিজপদার্থ ২.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৫ গ্রাম ও চর্বি ০.১ গ্রাম। এছাড়া শর্করা রয়েছে ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৯ মিলিগ্রাম ও লৌহ ০.৬ মিলি গ্রাম। কদবেল ভিটামিনেরও ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলে ৫৫ মি.গ্রাম ভিটামিন এ, ৬০ মি.গ্রা. ভিটামিন সি থাকে। এছাড়াও ৫ গ্রাম আঁশ, ৫০ মি.গ্রাম ফসফরাস ও ৬শ’ মি.গ্রা. পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন : বেক ছাড়াই তৈরি করুন কেক

কদবেলের উপকারিতা

কদবেল শরীরের নানান উপকার করে। বিশেষ করে কাশি, সর্দি, হাঁপানি, ও যক্ষ্মা রোগ নিরাময়ে খুবই কার্যকর। সুপরিচিত এই ফলটির আরো কিছু গুনাগুণ সম্পর্কে জেনে নিন-

ডায়াবেটিস প্রতিরোধক: কদবেলের নির্যাস ডায়াবেটিস চিকিত্সার জন্য আয়ূর্বেদী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: কদবেল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুর শক্তি যোগায়। ত্বকের জ্বালা পোড়া কমাতে কদবেলের ক্বাথ মলম হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন : ওষুধ খাওয়ার ভুলে অসুস্থতা

কদবেলের ফুলও উপকারি

কদবেলের ফুলও উপকারি

রূপচর্চায় সহায়ক: ব্রুণ ও মেছতায় কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

পেট রোগ নিরাময়: কদবেলে ট্যানিন রয়েছে। ট্যানিন দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। কদবেল গাছের বাকল মধু সঙ্গে মিশ্রিত করে খেলে পেটের রোগ আমাশা ভাল করে। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়।

কিডনি সুরক্ষা: এই ফল নিয়মিত খেলে কিডনি সুরক্ষা থাকবে। যকৃৎ ও হৃদপিন্ডের জন্যও উপকারি।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি: চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে কদবেল। চোখের ছত্রাক জনিত রোগে কদবেল পাতা একটি কাপড়ে পুটলি করে হালকা গরম অবস্থায় সেক নিলে চোখে লাল ভাব নিরাময় হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়: কদবেলের ফুল শুকিয়ে পাউডার করে কয়েক মাস সংরক্ষণ করে রাখা যায়। ফল দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠবদ্ধতা ও আমাশা দূর করে।

রক্ত স্বল্পতা রোধ: রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে কদবেল। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক এই ফল। চিনি বা মিছরির সঙ্গে কদবেল পাউডার মিশিয়ে খেলে সঙ্গে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং রক্তাল্পতা দূর হয়।