অতিরিক্ত পড়ালেখা আর টিভি বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে শিশুর দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। আয়ারল্যান্ডের ‘গালওয়ে ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’য়ের গবেষণার ফলাফল থেকে ডেইল মেইলের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, দৈনিক দুই ঘণ্টা ঘরের বাইরে না কাটিয়ে যদি শিশুরা খালি পড়ালেখা আর বৈদ্যুতিক যন্ত্রের পর্দার সামনে সময় কাটায় তবে তাদের দৃষ্টিক্ষীণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন ‘স্কুল মাইয়োপিয়া’ বা দৃষ্টিক্ষীণতা।

আরো পড়ুন : মা-বাবার থেকে যেভাবে গর্ভের সন্তানেরও ডায়াবেটিস হতে পারে

আর এসব শিশুরা পরিণত বয়সে এসে অন্ধও হয়ে যেতে পারেন বলে জানান গবেষকরা। কারণ ছোটবেলা থেকেই তাদের দৃষ্টিশক্তি কম থাকার কারণে বড় বয়সে চোখের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

গবেষক ডা. ক্লেয়ার কুইগলি বলেন, “নয় বছর বয়সি ৮ হাজার ৫শ’ ৬৮ জন শিশুকে পর্যবেক্ষণ করে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ব্যাপারে এরকম জোড়ালো প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।”

সানডে টাইমস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডা. কুইগলি আরও বলেন, “ক্রমাগত দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ঘরে বসে থাকা আর পড়ালেখায় ডুবে থাকা। যদিও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার বিষয়টা বংশগত ধরা হয়। তবে আমাদের এই গবেষণায় বলছে যে, কাছে থেকে কাজ করা যেমন- হোমওয়ার্ক, লেখা, কম্পিউটারে কাজ করার কারণে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতি হতে থাকে।”

আরো পড়ুন : রান্নায় পেঁয়াজের বিকল্প হতে পারে চিভ

‘ইন্টারন্যাশনাল মাইয়োপিয়া ইন্সটিটিউট’ গবেষণাপত্র থেকে আরও জানায়, চোখের কাছে রেখে কাজ করতে হয় এরকম কর্মের জন্য প্রতি এক ঘণ্টায় দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে দুই শতাংশ।

গবেষকরা জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ দৃষ্টিক্ষীণতায় আক্রান্ত হবেন।

ছবি: রয়টার্স।