টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : বিনা অপরাধে ২৭ দিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান বাবুল হোসেন নয়ন।

বুধবার সকালে নয়নকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলাম। দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান নয়ন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নয়নের আইনজীবী সেলিম আল দীন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আইনজীবী সেলিম আল দীন বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী (১১) বাসাইলের চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। চারদিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। পরিবারের চাপে নয়ন নামে এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল বলে জানায় স্কুলছাত্রী।

এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ বাবুল হোসেন নয়নকে গ্রেফতার করে স্কুলছাত্রীর মুখোমুখি করলে ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে স্কুলছাত্রী। এ সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে স্কুলছাত্রীকে চেনে না এবং কক্সবাজারে যাননি বলে জানান বাবুল হোসেন নয়ন।

আরও পড়ুন >> শ্রীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

কিন্তু স্কুলছাত্রীর জোরালো বক্তব্য এবং অনড় অবস্থানের কারণে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে বাবুল হোসেন নয়নকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে বাবুল হোসেন নয়নকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে অনুমতি দেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নয়ন বার বার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলে।

এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, স্কুলছাত্রীর কাছে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে মামলার তদন্তকাজ। পরে কক্সবাজারের হোটেলে দেয়া মোবাইল নম্বর ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য। মূলত প্রেমিক নয়ন মিয়াকে বাঁচাতে নিরপরাধ বাবুল হোসেন নয়নকে ফাঁসিয়ে দেয় কিশোরী।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ৭ অক্টোবর ঘটনার মূল হোতা নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়। নয়ন মিয়া বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নুহু মিয়ার ছেলে। তার সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার নয়ন মিয়া ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সখীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এ মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মূল আসামি নয় মিয়া। এ অবস্থায় নিরপরাধ বাবুল হোসেন নয়নকে মুক্তি দিয়েছেন আদালতন। মূল আসামি নয়ন মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।