ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে

0
225
যে ময়েশ্চারাইজার ত্বককে ঘণ্টা খানেক আর্দ্র, নরম ও মসৃণ রাখতে সেটাই ভালো। বিশেষ করে শীতকালে। ত্বক আর্দ্র থাকলে এর স্থিতিস্থাপকতা যেমন বজার থাকে তেমনি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও দূর হয়। তবে বাজারের অসংখ্য প্রসাধনীর মাঝে কোন ‘ময়েশ্চারাইজার’টা ভালো সেটা খুঁজে পাওয়া সহজ কাজ নয়। রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের আলোকে জানানো হলো কোন উপাদানগুলো একটি ভালো ‘ময়েশ্চারাইজার’য়ে থাকতে হবে।

আরো পড়ুন :পায়ের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনুন মাত্র একদিনে!

‘ময়েশ্চারাইজার’য়ের ধরন

বহুল ব্যবহৃত এই ‘ময়েশ্চারাইজার’কে প্রসাধনীও বলা যায় আবার ‘থেরাপিউটিক’ পণ্যের তালিকাতেও ফেলা যায়। কোনোটা ত্বকের আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করে। আবার কোনোটা আর্দ্রভাবকে আরও উন্নত করে। এতে থাকা উপাদানের ভিত্তিতে ‘ময়েশ্চারাইজার’কে চারভাগে ভাগ করা যায়।

হিউমেক্ট্যান্টস: এ ধরনের উপাদান ত্বকে প্রয়োগ করলে তা আর্দ্রতা আকর্ষণ করে এবং ত্বকের বাইরের অংশ বা ‘স্ট্রাটাম কর্নেয়াম’য়ের আর্দ্রভাবকে আরও উন্নত করে। ত্বকের অস্বাভাবিক পুরুত্ব কমাতে এগুলো ব্যবহার হয়।

আবার যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক এবং চুলকানি প্রবণ তাদের চামড়া ওঠার সমস্যা সারাতেও এই ধরনের ‘ময়েশ্চারাইজার’ ব্যবহার হয়। ‘হেউমাক্ট্যান্টস’ ত্বকের ভেতরের অংশ থেকে তরল নিঃসরণ বাড়ায় যাতে বাইরের আবহাওয়ার ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা না হারায়। আর একারণেই আর্দ্রতাকে ত্বকের আটকে রাখে এমন ‘ময়েশ্চারাইজার’য়ের সঙ্গে একত্রিত করে এই উপাদান ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন : তেলে ঝোলে ইলিশ

গ্লিসারিন, সর্বিটল, ইউরিয়া, আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ও চিনি হল ‘হেউমাক্ট্যান্টস’ ধরনের উপাদান।

অক্লুসিভস: ত্বকের ভেতরের অংশ থেকে নিঃসরিত তরলকে ত্বকের বাইরের অংশের মাঝে আটকে রাখে এধরনের উপাদানগুলো। ফলে ত্বকে সর্বদা তারল্য বজার থাকে। আর্দ্র ত্বকের উপর ‘হাইড্রোফোবিক ব্যারিয়ার’ আবরণ তৈরি করে উপাদানগুলো। ফলে এদের কার্যকারীতা হয় চমৎকার।

‘পেট্রোলিয়াম’ হল সবচাইতে কার্যকর ‘অক্লুসিভ’ ধরনের ‘ময়েশ্চারাইজার’ যা ত্বকের আর্দ্রতা হারানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

‘ল্যানোলিন’, খনিজ তেল, ‘সিলিকন’ ইত্যাদি আর্দ্রতা হারানোর মাত্রা কমায় মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।

তবে ‘অক্লুসিভ’য়ের সবচাইতে বড় সমস্যাগুলো হল দুর্গন্ধ, অ্যালার্জির আশঙ্কা এবং ত্বকে সৃষ্টি করে আঠালোভাব।

ইমোলিন্টস: এগুলো হল ‘লং চেইন স্যাচুারেইটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ যা ত্বকের উপরিভাগে প্রয়োগযোগ্য বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহার হয়।

‘ময়েশ্চারাইজার’ তৈরিতে ব্যবহার করলে এগুলো ত্বকের কোষের মাঝে জমা হয়ে ত্বক নরম করে। বেশি পরিমাণে মাখলে তা ত্বকের আর্দ্রতা আটকে রাখতেও সাহায্য করে।

‘ময়েশ্চারাইজার’য়ে ব্যবহৃত ‘ইমোলিন্টস’য়ের মধ্যে আছে ‘স্কোয়ালিন’, ‘কোলেস্টেরল’ এবং ‘ফ্যাটি অ্যাসিড’ যা সাধারণত সংগ্রহ করা হয় নারিকেল ও পাম তেল ইত্যাদি থেকে।

আরো পড়ুন : উপকারিতা জেনে সুস্বাদু ‘পিনাট বাটার’ তৈরি করুন ঘরেই

সংবেদনশীল ত্বকেই এগুলো ব্যবহার হয় বেশি। আর যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা ‘অয়েল ফ্রি ইমোলিন্টস’ ব্যবহার করতে পারেন, যাতে থাকবে ‘গ্লাইকল’ ও ‘গ্লিসারিন’। তবে এই উপাদানগুলো সংবেদনশীল ত্বকে প্রয়োগ করলে প্রচণ্ড শুষ্কতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। 

প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার: প্রাকৃতিক ‘অ্যামিনো অ্যাসিড’, ‘ইউরোক্যানিক অ্যাসিড’, ‘ইনোর্গানিক সল্ট’, চিনি, ‘ল্যাকটিক অ্যাসিড ও ‘ইউরিয়া’ হল সাধারণ কিছু প্রাকৃতিক ‘ময়েশ্চারাইজার’। প্রকৃতি থেকে আর্দ্রতা ত্বকের টেনে আনতে বেশ কার্যকর এই উপাদানগুলো। ফলে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলেও ত্বক আর্দ্র রাখতে পারে এই উপাদান সমৃদ্ধ ‘ময়েশ্চারাইজার’।

ত্বক আর্দ্রতা রাখার ক্ষেত্রে ‘ময়েশ্চারাইজার’য়ের সর্বোচ্চ উপকার পেতে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এদের নিয়মিত ব্যবহার। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত অনেক ‘ময়েশ্চারাইজার’য়ে এই চার ধরনের উপাদানের মিশ্রণ মিলতে পারে।