জাবিতে উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি

0
27

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (১৬ অক্টোবর) উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, উপাচার্যের অপসারণ দাবির আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন দাবি করে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল এবং সংহতি সমাবেশ করেছেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। 

 

আরো পড়ুন : জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবন চত্বর থেকে মিছিল বের হয়ে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সেটি তদন্ত করুন। যারা জাহাঙ্গীরনগরকে বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করছে আপনি তাদের পক্ষ অবলম্বন করুন। তদন্ত কমিটি চাওয়া হয়েছে আপনাকে অপমানিত করার জন্য নয়, আপনার স্বচ্ছতার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য আরেকটি পক্ষ দাঁড়িয়েছে যারা আপনার পক্ষের কথা বলছে। মূলত তারা আপনার বিরোধী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।’

এ সময় দর্শন বিভাগের আরেক অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, ‘উপাচার্যের আর নৈতিক কোনও অধিকার নেই এই সম্মানিত পদে থাকার। তিনি দুর্নীতির সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত হয়েছেন। এখন নতুন করে দলভারি করে প্রমাণ করতে চাইছেন তিনি দুর্নীতিবাজ নন। যারা দালালি করে তারা সংখ্যায় কোটি কোটি হলেও একটি নৈতিক কথার কাছেই তারা পরাস্ত হবে।’

আরো পড়ুন : এবার জাবিতে ছাত্রদলের মিছিলে ছাত্রলীগের ধাওয়া

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ বলেন, ‘উপাচার্য স্বৈরাচারী আচরণের এমন সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা আগের সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। যারা টাকা পেয়েছে তারা স্বীকার করছে কিন্তু উপাচার্য বারংবার মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। আমরা এই উপাচার্যকে আর দেখতে চাই না।’

আরো পড়ুন : জাবি প্রক্টর ‘মাদক সংশ্লিষ্টতায়’ আটক ছাত্রলীগ কর্মীদের ছাড়িয়ে নিলেন

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হারেস ভুঁইয়া বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধের আন্দোলনকে আদর্শিক ও নৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে উপাচার্যের সাফাই গাওয়ার জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এটা দিয়ে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন না।’

এর আগে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপাচার্যের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে চার শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে মৌন মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংহতি সমাবেশ করেন তারা।

এ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদেই গণজাগরণ হয়, আজকে এখানে তাই লক্ষ করা যাচ্ছে। এই গণজাগরণ প্রমাণ করে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হচ্ছে তা একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।’

আরো পড়ুন : জাবি উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি

উপাচার্যের সমর্থক আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা আসুন, দেখুন কত মানুষ আমরা এখানে একত্র হয়েছি। এই সমাবেশ প্রমাণ করে আপনাদের আন্দোলন যৌক্তিক নয়। তাই আসুন মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলন না করে একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করি এবং উন্নয়নের পক্ষে থাকি।’

সমাবেশে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র অধ্যাপক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।