গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা :

প্রেমিক সোহাগের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে আসে এক কিশোরী। খবর পেয়ে সেখানে আসেন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরাও। পরে বিষয়টি নিয়ে সালিস বসে। এ সময় ‘লজ্জা’য় আত্মহত্যা করেন সোহাগ। খবরটি শুনে হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সেই কিশোরী।

ঘটনাটি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সোহাগ (১৯)। আজ শুক্রবার সকালে হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই কিশোরী (১৭)। পরে তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

স্থানীয় লোকজন ও দুই পরিবারের কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা সোহগের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কিশোরীর। তাদের দুজনই রাজশাহীতে লেখাপড়া করেন। সোহাগ পড়েন রাজশাহী পলিটেকনিক্যালে এবং ওই কিশোরী সিটি কলেজে।

ছুটি থাকায় নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি আসেন দুজনই। এর মধ্যেই গতকাল হঠাৎ পৌর সদরের আনন্দনগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছোট ছেলে সোহাগের বাড়িতে আসে ‍ওই কিশোরী। তাকে বিয়ে করার দাবি জানালে সোহাগের পরিবারের সদস্যরা রাজি হয়নি।  

এদিকে একজন মেয়ে বিয়ের দাবিতে সোহাগের বাড়িতে অবস্থান করছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তাদের বাড়িতে আসে। আসার পর থেকে কিছু না খাওয়ায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে কিশোরী। এ কারণে এলাকাবাসীর মাঝে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রেমিকাকে মেনে নিতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন সোহাগ।

গতকাল বিকেলে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন সোহাগের বাড়ি আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয় ওই কিশোরীর পরিবারও। পরে দুই পরিবারকে নিয়ে বসে বিষয়টির মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি।

বৈঠক চলাকালীন রাত ১২টার দিকে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সোহাগ। সকালে প্রেমিকের আত্মহত্যার খবর পেয়ে টয়লেট পরিষ্কার করার পদার্থ হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে কিশোরী। পরিবারের লোকজন তা দেখতে পেয়ে তাকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সোহাগের আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।