৩ সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ, অপসারণ হতে পারেন ভিসি নাসির

0
92

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চলছে বিক্ষোভ কর্মসূচিও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন।

এদিন এক দফা দাবিতে মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে ভিসির দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। পরে জয় বাংলা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়টির তদন্ত শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসির) পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করে ইউজিসির প্রতিনিধি দল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউজে উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এ সাক্ষাৎকার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নুর উদ্দীন আহমেদ ও প্রক্টর আশেকুর রহমান ভূইয়াসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ও কুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছায়।

ওই দিন বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সময় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী, বহিরাগত ক্যাডারদের হামলায় আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে তদন্ত দল। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে সাক্ষাৎকার গ্রহণ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। এ সময় আইন বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়ার সাক্ষাৎকারও নেয় প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের প্রধান অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটি কীভাবে নিরসন করা যায়, সেজন্য আমরা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি বুধবার এখানে এসেছি। আমাদের তদন্ত এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। আমাদের সঙ্গে যারা কথা বলতে চেয়েছেন তাদের সময় দিয়েছি। আমরা বিষয়টি জানলাম। আমাদের কাছে বিষয়টি এখন পরিষ্কার হয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন দেব। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে একটি সুন্দর অবস্থা বিরাজ করবে। অল্প সময়ের ভেতরে শিক্ষা ও গবেষণায় ফিরে আসবে বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় সবাই সহযোগিতা করবেন, এটাই আমাদের চাওয়া।

তদন্ত দলের সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, হামলায় যেসব ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি আমরা। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে আশা করছি। সবার মনে রাখতে হবে, এটি জাতির পিতার জন্মস্থান। জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান এবং ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে সুন্দরভাবে ক্লাসে ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। এখানে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত আমরা ইউজিসি চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিয়ে জানাব। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত দেবেন। আমাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে।

এ সময় প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্য ড. দিল আফরোজা বেগম, ড. কামাল হোসেন ও মৌলি আজাদ উপস্থিত ছিলেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে।

ক্যাম্পাস থেকে চলে যাওয়ার সময় ইউজিসি তদন্ত দলের হাতে একটি স্মারকলিপি ও উপাচার্য ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের দুর্নীতি-অনিয়মের যাবতীয় ডকুমেন্ট তুলে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে শিক্ষকদের নামে অশালীন মন্তব্য ছড়াচ্ছে একটি মহল। এর দায়ভার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে মহলটি। এ ধরনের কার্যক্রমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জড়িত নয়। ওই মহলটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনকে দমিয়ে দেয়ার জন্য তারা এ কাজ করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব আমরা।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউজিসির তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলে যা বোঝা গেলো তাতে মনে হচ্ছে উপাচার্য নাসির উদ্দিন অপসারণ হবেন। তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। কারণ আমরা এটিই ইউজিসি তদন্ত দলকে বলেছি। আমরা তদন্ত দলকে এও বলেছি, ভিসিকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এরই মধ্যে আমাদের তিনজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেছেন। কাজেই ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে, না হয় অপসারণ।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আরও একজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেছেন। তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর (ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি) ও ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তরিকুল ইসলাম।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী প্রক্টর নাজমুল হক শাহীন পদত্যাগ করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বহিরাগত ক্যাডারদের হামলার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করলেন।