মরার আগে ভাইকে চিঠিতে যা লিখেছিলো কিশোর

0
33

ছেলেটি মারা যাচ্ছিলো। আর এটি বুঝতে পেরেই বাঁচার তাগিতে দ্রুত সে খাতার পৃষ্ঠা ছিড়ে তার বড় ভাইয়ের সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেছিলো। কিন্তু এই চিঠি তাকে বাঁচাতে পারেনি। হাসপাতালে নেয়ার পরপরই সে মারা যায় সে। কিন্তু ভাই লেখা চিঠিটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হয়েছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ জেলায়।

জানা যায়, জেলার এক সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো ১২ বছরের রাহুল কুমার রাম। প্রতিদিনের মতো বুধবারও স্কুলে যায় সে। বিকেলে স্কুল শেষে ক্লাস শেষে বেরিয়ে আসার সময় তার পায়ে ছোবল মারে একটি বিষাক্ত সাপ। কিন্তু রাহুল তা দেখতে পায়নি। ভেবেছিলো হয়তো কোনো ইঁদুর টিদুর কামড়েছে। সে গল্প করতে করতে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পথ ধরে। সে তাদের বলে,‘জানিস, আমার পায়ে যেন কি কামড়েছে। ব্যাথা করছে।’

কিছুদূর আসতেই সে মাটিতে পরে যায়। তখন তার আর কথা বলার মতো অবস্থা ছিলো না। সে দ্রুত ব্যাগ থেকে একটা খাতার পৃষ্ঠা ছিড়ে লিখতে থাকে। মাত্র একটি বাক্যই লেখার সুযোগ পেয়েছিলো সে। বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে সে লিখেছিলো, ‘দয়া করে আমার ভাইকে ডাক…আমি আর হাঁটতে পারছি না।’

এরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রাহুল। তখন তার বন্ধুরা তাকে ধরাধরি করে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর রাহুলকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এর আগেই তার গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়েছিলে বিষ। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মারা যায় রাহুল।

এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাহুলের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিষাক্ত সাপ প্রবেশ করে তাদের ছেলেকে কামড়ে দিয়েছে। নিজেদের দায় স্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং তারা রাহুলের পরিবারকে ১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতেও সম্মত হয়েছে।

কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণই আর রাহুলের অভাব পূরণ করবে না। বিশেষ করে তার বড় ভাইয়ের কাছে, রাহুলের মৃত্যুতে যে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তিনি ভাবছেন, হয়তো তিনি কাছে থাকলে তার ভাইকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। এই ঘটনায় শুধু রাহুলের পরিবার নয়, গোটা এলাকাতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সূত্র: গালফ নিউজ