সিংগাইরে অর্থের অভাবে হাতের ভেতর রড নিয়েই চলছে মনোয়ারার জীবন সংগ্রাম

0
229

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : মাত্র ২০ হাজার টাকার অভাবে হাতের ভেতর ঢুকানো লোহার রড নিয়ে চলছে এক গৃহবধূর জীবন সংগ্রাম। বেঁকে যাওয়া ভাঙ্গা বাম হাতটি কোনো রকম নাড়াচারা করতে পারছেন না তিনি। জিজ্ঞেস করতেই অপলক দৃষ্টিতে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে জানালেন তার এ দুর্বিসহ জীবন কাহিনী। ওই গৃহবধূর নাম মনোয়ারা (৪৫)। তার বাড়ি সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের পূর্ববাস্তা গ্রামে।

গৃহবধূ মনোয়ারার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বৃষ্টির দিনে পা পিছলে পড়ে বাম হাত ভেঙ্গে যায় তার। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পার্শ¦বর্তী সাভারস্থ হেমায়েতপুর জামাল ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার ভাঙ্গা হাত প্লাস্টার করে ভেতরে রড ভরে দেন। টাকার অভাবে ভাঙ্গা হাতের রড আর বের করা হয়নি। গত ১৫ বছর ধরে হাতের ভেতর রড নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন মনোয়ারা। অন্য মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে বাম হাত নাড়াচারা করতে পারেন না তিনি। হাতের কনুই সব সময় বাঁকা হয়েই থাকে।

আরও পড়ুন >> ধামরাইয়ে বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

মনোয়ারা আরও জানান, ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। এরই মধ্যে তিনি ৩ মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামী হাফিজুদ্দিন ইতিপূর্বে রাজমিস্ত্রীর কাজ করলেও বয়সের ভারে তিনি নুঁয়ে পড়েছেন। তার পরিবারের একমাত্র বড় ছেলে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। রাজমিস্ত্রীর কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন >> নন্দন পার্কের রিসোর্টে অসামাজিক কাজ, কর্মকর্তাসহ ৩ জুটি আটক

মনোয়ারা আরো জানান, ইতিপূর্বে স্থানীয় চাঁনমিয়া হাজ্বী ও তার ছোট ভাই হিরু মিয়া চিকিৎসা খরচ বহন করেছেন। ডাক্তার তাকে জানিয়েছেন, বর্তমান অবস্থায় তার হাতের ভেতর থাকা লোহার রড বের করতে ২০ হাজারের অধিক টাকার প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, মনোয়ারের পরিবারের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন >> ধামরাইয়ে চাকরি প্রত্যাশী গণধর্ষণের শিকার, ৬ জনকে আসামী করে মামলা

এ ব্যাপারে ধল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এ পর্যন্ত মনোয়ারা কিংবা তার পরিবারের কেউ আমার কাছে সাহায্যের জন্য আসেনি।