সুলভে স্যানিটারি ন্যাপকিন

0
50
সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কিশোরীদের মাঝে কম খরচে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

য় দুই বছর ধরে স্বল্প দামে স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছিলেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরিপূর্ণ ভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে বিদ্যানন্দের সেচ্ছাসেবকরা।

চীন থেকে আনা কাঁচামালগুলো জীবাণুনাশক ও প্যাকেট করার কাজটি হচ্ছে রাজধানীর মিরপুরের বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে। নাম ‘বাসন্তি স্যানিটারি ন্যাপকিন’, দাম রাখা হয়েছে পাঁচ টাকা।

সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পিরিয়ড চলাকালীন নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণের মতো আর্থিক সঙ্গতি না থাকার ফলে বাধ্য হয়ে তারা অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। তাই ক্যান্সারের মতো মরণব্যধি রোগের ঝুঁকি থেকে যায়। তাদের কথা চিন্তা করে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

প্রতি প্যাকেটে রয়েছে পাঁচটি করে স্যানিটারি ন্যাপকিন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সেচ্ছাসেবক সালমান খান ইয়াসিন জানান, এর উৎপাদন খরচে ২৫ থেকে ৩০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছেন তারা।

সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য পাঁচ টাকায় ‘বাসন্তি’ স্যানিটারি ন্যাপকিন দেবে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিএখন পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কিশোরীদের মাঝে বিতরণে করা না হলেও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবীসহ তাদের পরিচালিত এতিমখানার কিশোরীরা এই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেছেন। এখন পর্যন্ত ফলাফল ভালো বলে জানিয়েছেন তারা।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস বলেন, “আমরা চাই সস্তায় ন্যাপকিন পাওয়ার সুবিধা মধ্যবিত্তরাও পাক। তবে আমাদের এই প্রজেক্ট শুধু মাত্র সুবিধা বঞ্চিত নারীদের জন্য। নারীদের প্রয়োজনীয় এই পণ্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চাইলে কম লাভে বিক্রি করতে পারেন। যারা আমাদের অনুদান দেয় তারা শুধুমাত্র দরিদ্রদের জন্য দিচ্ছেন। তাই আমি চাইলেও মধ্যবিত্তদের জন্য এটি দিতে পারবো না। তবে আমি পথটা দেখিয়ে দিচ্ছি, কেউ না কেউ তা অণুসরণ করতেই পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে আছে তুলা আর জেল। সেখানে ক্রিম মেখে বেশিদামে বিক্রি করার কোনো মানে নেই। ব্যবসায়ীরা চাইলে অনেক কম দামে এই পণ্য বিক্রি করতে পারেন, বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে। আমাদের কোনো ধরনের ব্যাণিজিকীকরণ করার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি মনে করি চ্যারিটির জায়গায় চ্যারিটি আর বাণিজ্য বাণিজ্যের জায়গায়।”