ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন নুসরাতের মা ও ভাই

0
23

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই রাসেদুল হাসান রায়হান।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী দিন ১৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন।

আরো পড়ুন : রিশা হত্যার রায় ৬ অক্টোবর


নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার জবানবন্দিতে বলেন, গত ২৭ মার্চ আমার মেয়ে নুসরাতসহ সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাই। তখন ওসি মোয়াজ্জেম আমার মেয়ের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ওসির রুমে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রুম থেকে বের হয়ে নুসরাত বলে, ‘আমার নেকআপ খুলে ওসি জবানবন্দি ভিডিও করেছে।’
জবানবন্দিতে নুসরাতের ছোট ভাই রাসেদুল হাসান রায়হান বলেন, গত ২৭ মার্চ আমাদের বাইরে রেখে নুসরাতকে ওসির রুমে নিয়ে যায়। রুম থেকে বের হয়ে নুসরাত বলে, ওসি তাকে আপত্তিকর কথা বলেছে। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল ফেসবুকে এই ভিডিওটি দেখতে পাই।

আরো পড়ুন : প্রথম দিনই সাক্ষী আসেননি অভিজিৎ হত্যা মামলার


জবানবন্দি শেষে ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জেরা করেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার একমাত্র আসামি মোয়াজ্জেম আদালতে হাজির ছিলেন।
গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা মামলার ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালে। এরপর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
গত ১৬ জুন দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরদিন ১৭ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরো পড়ুন : থামছে না শিশু ও নারী নির্যাতন, বাড়ছে উদ্বেগ


প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় নুসরাতের বক্তব্য গ্রহণের সময় তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এর ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।