নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা

0
85

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। নতুন করে কোন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার র্গাড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। শুক্রবার গভীর রাতে একটি নৌকায় ৬ রোহিঙ্গা টেকনাফের হ্নীলা নয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা সময় আটক করে বিজিবি। আটককৃতদের মধ্যে তিন জন নারী ও তিন জন শিশু ছিল।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান (পিএসনি) বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে টেকনাফের হ্নীলা নয়াপাড়া বিশেষ ক্যাপের নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল হ্নীলা নয়াপাড়া নাফ নদীর কুতুবদিয়া ঘাট এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের ৬ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে। তাদের মধ্যে ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু ছিল। পরে গভীর রাতে আটক মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের একই সীমান্ত দিয়ে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা সতর্কতার অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে সীমান্ত দিয়ে কিছু কিছু পলেন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশ করে থাকে। আমরা তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এমন আশঙ্কায় সীমান্ত জুড়ো বিজিবির সর্তক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও মাদক ঠেকাতে সীমান্তে রাত-দিন টহল দিয়ে যাচ্ছে বিজিবির সদস্যরা। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্তক অবস্থানে রয়েছি আমরা।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, মিয়ানমারে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জীবন যাপন কষ্টের মধ্যে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আগের মত কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘মাঝে মধ্যে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে থাকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টে কোরবানি ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে এখনো পর্যন্ত কোন রোহিঙ্গা শর্তবিহীন মিয়ানমার ফেরত যেতে রাজি হয়নি।