মুণ্ডুহীন মুরগি উৎসব

0
18

মুরগির জন্য উৎসব; তা-ও আবার মুণ্ডুহীন মুরগি! আর এই পুরো উৎসব যাকে ঘিরে সে হচ্ছে মুরগি জগতের সেলিব্রিটি ‘মাইক, দ্য হেডলেস চিকেন’। তার সম্মানেই প্রতি বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ফ্রুইটা এলাকার লোকরা পালন করে ‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন ফেস্টিভ্যাল’। মাইকের জন্য আয়োজন করে গাড়ি প্রদর্শনী, মুরগি নাচের প্রতিযোগিতা, মুণ্ডুহীন মুরগির মতো দৌড় প্রতিযোগিতা, মুরগি নিয়ে মজার খেলা, আর জিভে জল আসার মতো কিছু মুরগির রেসিপি। ন্যাশনাল ট্রাভেল সাইটের জরিপে সেরা-১০ উৎসবের তালিকায়ও আছে এর নাম।

উৎসবটির পেছনের কাহিনীটা বেশ আজব। ১৯৪৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ফ্রুইটার ওলসেন পরিবারের রাতের খাবারের জন্য মুরগির একটি ডিশ বানানোর পরিকল্পনা করেন লয়েড ওলসেন। মাইক নামের সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী মুরগিটাকে ধরে মাথায় এক কোপ বসান তিনি। কোপ দিয়ে মুরগিটাকে রেখে চলে যান লয়েড। পরদিন সকালে বাঙ্ খুলতেই তাজ্জব বনে যান। মুণ্ডু ছাড়াই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে মাইক।

এরপর ওই মাইককে ভালোভাবে খাবার আর পানি দিয়ে পালতে থাকেন লয়েড। দানাপানি খাওয়াতে লাগলেন আই-ড্রপারের সাহায্যে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর ওলসেন তার নতুন মুণ্ডুহীন বন্ধুকে নিয়ে যান ২৫০ মাইল দূরের সল্ট লেক সিটির ইউনিভার্সিটি অব উটাহে। মাইকের এমন অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়ার কারণ কী, তা বের করাই ছিল উদ্দেশ্য। ওলসেনের কুঠারটি ঠিকমতো মাইকের একটি শিরায় আঘাত করতে ব্যর্থ হয়। আর তাতেই বেঁচে যায় মাইক।

মাইককে নিয়ে মিডিয়ায় মাতামাতি শুরু হয়ে যায়। তাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে রিপ্লিস, বিলিভ ইট অর নট, টাইম ও লাইফ ম্যাগাজিন। তখন মাসে মাইকের আয় ছিল সাড়ে চার হাজার ডলার। সে সময় নিউইয়র্ক, আটলান্টিক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সান ডিয়াগোর মতো বড় শহরগুলোতে তাকে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী হয়। ২৫ সেন্টের বিনিময়ে মাইককে একনজর দেখার জন্য তৈরি হয় বিশাল লাইন। আশ্চর্য মুরগির খেতাব পাওয়া মাইকের দাম হাঁকা হয় ১০ হাজার ডলার।

এমনকি বীমাও করানো হয়েছিল মাইকের। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে যে তার নাম উঠবে তা তো জানা কথা। অবশ্য সবকিছুরই শেষ থাকে। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে এক প্রদর্শনী শেষে ফিনিঙ্গে এক মোটেলে থাকাকালে মারা যায় মাইক। মাথা ছাড়া মুরগিটি বেঁচে ছিল ১৮ মাস। মৃত্যুর পরও জনপ্রিয়তায় কিন্তু ভাটা পড়েনি একটুও। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি বছর মে’র তৃৃতীয় সপ্তাহে কলোরাডোর ফ্রুইটাবাসী মাইকের স্মরণে পালন করছে বিশেষ দিবস।

‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন’ নামে সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ‘রেডিওঅ্যাকটিভ চিকেনহেডস’ নামের একটি ব্যান্ডদল মাইককে নিয়ে গানও তৈরি করেছে। ফ্রুইটার মূল সড়কের পাশেই রয়েছে মাইকের ভাস্কর্য।