জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের মূল ধারায় নিয়ে আসা বিজেপি সরকারের অর্জন : মোদী

0
99

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দেয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতকে এক দেশ এক সংবিধান হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এক দেশ এক সংবিধান-এর আদর্শ এখন বাস্তব এবং ভারত তার জন্য গর্বিত। আগামী পাঁচ বছরে দেশবাসীর স্বপ্নপূরণের কাজ করবেন তিনি। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘৩৭০ ধারা, ৩৫ এ ধারার বিলুপ্তি ঘটিয়েছি আমরা। আমরা সমস্যা কখনও এড়িয়ে যাইনি।

গত ৭০ বছর ধরে যে সমাধান করা যায়নি, তা আমরা ক’দিনে করেছি। সংসদের দুই কক্ষে আমরা সমর্থন পেয়েছি। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এক দেশ, এক সংবিধান’’। অন্যদিকে, তিন তালাক প্রথা রদের প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ‘‘আমাদের মুসলিম মা-বোনেদের তিন তালাকের আতঙ্ক মুক্তি হয়েছে এখন। পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে এই রীতি আগেই বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশ এ নিয়ে দ্বিধায় ছিল’’। বৃহস্পতিবার পতাকা উত্তোলনের পর লালকেল্লায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘৩৭০ ধারা বাতিল করাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন পূরণ করতে।”

৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে দেয়া ভাষণে মোদী জানালেন, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা এধরনের একটি নতুন সামরিক পদ তৈরি করছে তার সরকার। এই পদে বহাল ব্যক্তি তিনটি সামরিক বিভাগেরই প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন। এই পদটি তৈরি করার জন্য বহু দিন ধরেই সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন সেনাকর্তারা। সেই পরামর্শ মেনেই এবার তিনটি বিভাগের সমন্বয়সাধনের জন্য এই বিশেষ পদটি তৈরি করছে সরকার। মোদী বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী দেশের গর্ব।

সেনাবাহিনীর প্রতিটি শাখার সমন্বয় আরও জোরালো করতে আমি একটি বড় ঘোষণা করতে চাই আজ। ভারতে একজন সিডিএস বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ থাকবেন। আমাদের সেনাবাহিনী আরও কার্যকরী হবে এই সিদ্ধান্তের ফলে। সহজ ভাষায় চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হলেন, সরকারের সঙ্গে স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান সংযোগরক্ষাকারী অফিসার। তিনটি বিভাগের ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হবে তাঁকে। এর ফলে তিনটি বিভাগের ঐক্য আরও জোরালো হবে বলে দাবি সরকারের।

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের পরেই ভারতে এই পদটির গুরুত্ব অনুভূত হয়। সেই সময় ভারতের নিরাপত্তার ফাঁকফোঁকড় খুঁজতে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জানায়, একজন ‘সিঙ্গল পয়েন্ট’ অফিসার প্রয়োজন, যিনি প্রতিটি সামরিক বিভাগ পরিচলনারই ভার নেবেন। ২০১২ সালে নরেশ চন্দ্র টাস্ক ফোর্স থেকে দাবি জানানো হয়, চিফ অফ স্টাফ কমিটির একজন চেয়ারম্যান চাই। চিফ অফ স্টাফ কমিটি সামরিক বাহিনীর তিনটি বিভাগের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে তৈরি। এই পরামর্শকে মান্যতা দিয়েই এই পদ তৈরি করল সরকার। তবে নতুন এই পদে কে আসবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

মোদী তার ভাষণে বলেন,  আমাদের লক্ষ্য একবিংশ শতাব্দীর ভারত গড়ে তোলা— কী ভাবে এটি এগোবে, কী ভাবে কাজ করবে, কী ভাবে ভাববে।


জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে থাকা আমাদের ভাইবোনদের জীবনের উন্নতি দেশবাসী হিসেবে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভারতকে দ্রুত এগোতে হবে। এবং তা সম্ভব হবে যদি প্রত্যেক ভারতীয় উন্নতি করেন। দরিদ্রদের হাত ধরা আমাদের দায়িত্ব। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। যাঁরা ছোট পরিবারের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা দেশের উন্নতিতে অবদান রেখেছেন। এটাও এক ধরনের দেশাত্মবোধ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী
বলেন, জলের ঘাটতি ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এক সাধু একবার বলেছিলেন, এমন দিন আসবে যেদিন আমাদের দোকান থেকে জ‌ল কিনতে হবে। সেটা আজ বাস্তব। ব্যাপারটা আরও খারাপ হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত নয়। আমাদের পদক্ষেপ‌ করতে হবে।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সমালোচনা করে মোদী বলেন, ‘‘যাঁরা ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করছেন, তাঁদের কাছ থেকে দেশ জানতে চায়, যদি এটা এতই অত্যাবশ্যক এবং জীবন-পরিবর্তনশীল বলে আপনাদের বিশ্বাস, তাহলে কেন ৭০ বছরে এটা অস্থায়ী থেকে গেল? কেন আপনাদের বিপুল জনাদেশকে কাজে লাগিয়ে একে স্থায়ী করলেন না?” এই বিল দ্রুত ভারতের সংসদে পেশ করে তা পাস করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিল কংগ্রেস। মোদী এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘তার মানে সকলেরই মনে এটা ছিল। কি‌ন্তু কেউ উদ্যোগটা নিতে চায়নি।”

এই নিয়ে ষষ্ঠবার স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নতুন সরকার গঠনের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণ। সাদা কুর্তা ও তাঁর প্রথাগত সাফা যা এবার লাল ও সবুজ বর্ণে রঞ্জিত ছিল, এই পোশাকে লালকেল্লায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। লালকেল্লায় আসার আগে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধির উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন নরেন্দ্র মোদি। শুরুতেই বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের দুরবস্থার কথা বলেন তিনি। ভাষণে উঠে আসে জল সংকটের কথাও।

২০১৪ সালে প্রথম বার ক্ষমতায় আসার পরে গত পাঁচ বছরে তাঁর সরকার কেবল দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভেবেছে ও তাঁদের জন্য নিরলস কাজ করে গিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে জনাদেশ থেকে স্পষ্ট, মানুষ তাঁদের সরকারকে বিশ্বাস করেছে। তিনি বলেন, আগের সরকারেরা কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ করেছে কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘আমার সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে না। আমরা সমস্যা ফেলে রাখি না।’ ৯২ মিনিটের ভাষণে ১০ মিনিট ধরে ৩৭০ ধারার বিলোপের ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।