ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জেরে তিন খুন

0
74

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন খুন হয়েছেন। এদের প্রত্যেককেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জের বড়হিত ইউনিয়নের কাঁঠালডাঙরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিন মাস পূর্বে একটি নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদে ওঠে আবদুর রশিদ পরিবারের দুটি শিশু। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিশুদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আবুল হাশেম। আর এ ঘটনা থেকেই দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের শুরু। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় ওই বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। ওই সময় বিষয়টি মীমাংসা না করে আবদুল রশিদ তার দলবল নিয়ে আবুল হাশেমের পরিবারের ওপর হামলা চালায় এবং আবুল হাশেম (৬০) এবং তাঁর ছেলে জহিরুল ইসলামকে (২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। এর কিছুক্ষণ পরই আবুল হাশেমের পরিবারের লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় চড়াও হয় আবদুল রশিদের পরিবারের ওপর। তারা দুই খুনের বদলা নিতে আবদুর রশিদের পুত্র আজিবুল ইসলামকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করে। 

ঘটনার পর পরই অকুস্থলে ছুটে আসেন ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এ নেওয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) শাকের হোসেন সিদ্দিকী এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীনসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এই ঘটনায় আরো দু-তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এরই মধ্যে আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জানমাল রক্ষার্থে ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।