সাভারে ইজারা পাওয়ার ২দিন আগেই কোরবানির পশুর হাট জমজমাট

0
218


স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬ আগস্ট জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার শাখার-১ থেকে ৬টি অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছেন। এ অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দরপত্র আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অথচ ইজারাদার চূড়ান্ত হওয়ার ২দিন আগে থেকেই সরকার দলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোরবানির পশুর হাট চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার সাভার উপজেলায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে অনুমোদিত ৬টি গরুর হাট সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আরও পড়ুন >> আশুলিয়ার কুটুরিয়ায় অবৈধ গরুর হাটের অনুমতি দিয়েছে থানা, ওসির না


এছাড়াও এ উপজেলার মধ্যে রয়েছে একাধিক অবৈধ কোরবানীর গরুর হাট। প্রশাসনের গাফিলতি থাকায় সরকার দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে আইন ভঙ্গ ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন >> সাভারের উলাইলে মহাসড়কের পাশে অবৈধ অস্থায়ী গরুর হাট বন্ধের নির্দেশ


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সাভার উপজেলার ৬টি অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট বসানোর স্থানে এ প্রতিবেদক ঘুরে দেখেছে। দেখা গেছে, আশুলিয়া ইউনিয়নের কাঠগড়া সোনার বাংলা ফ্যাক্টরীসহ সিএন্ডবি-আশুলিয়া সড়কের পাশে একটি পরিত্যাক্ত মাঠে ‘কাঠগড়া উচ্চ বিদ্যালয় সৌজন্য আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরু-ছাগলের বিরাট হাট’ নামে গেট তৈরি করে রং-বেরংয়ের ব্যানার পোস্টার এবং মাইকিং করে মাধ্যমে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ হাটে আসা গরু-ছাগলের ট্রাক আসলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়া সাধারণ মানুষ হয়রানি শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন >> আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসার দ্বন্দ্বে যুবলীগের আহ্বায়কসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ২


এ ব্যাপারে কাঠগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা এই জায়গায় হাট করার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা এ গরুর হাট পরিচালনা করার জন্য দরপত্র জমা দিয়েছি। তবে দরপত্র আমরা পাইলে এই স্থানে পশুর হাট করবেন বলে জানান। দরপত্র সিডিউল চূড়ান্ত হওয়ার আগে থেকেই আপনি কিভাবে এই স্থানে পশুর হাট বসিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি মোবাইল ফোন সংযোগটি কেটে দেন।

আরও পড়ুন >> ধামরাইয়ের ইউএনওর মোবাইল ফোন ছিনতাই


এ পশুর হাটের আনুমানিক দু কিলোমিটার দূরত্বে কুটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘কুটুরিয়া আদর্শ সংঘ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পশুর হাট চালিয়ে যাচ্ছেন এ হাটের কথিত ইজারাদার মো: রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তি। তিনি কোরবানী এ পশুর হাটে ৬ আগস্ট থেকে সরকারী নিয়ম-কানুনকে তোয়াক্ক না করে দেদাচ্ছে গরু বেচা-কেনা করে যাচ্ছেন। এ স্থানে হাট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো ৬টির মধ্যে ‘কুটুরিয়া আদর্শ সংঘ’ নামে পশুর হাটের কোন প্রকার অনুমোদন নেই।


এ ব্যাপারে কথিত ইজারদার রেজাউল করিমের কাছে হাটের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আশুলিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আমি আশুলিয়া থানা থেকে হাটের অনুমতিপত্র এনে এখানে হাট বসিয়েছি। থানা কি কোরবানী পশুর হাটের অনুমতি দিতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা থেকে তদন্ত দিয়েছে আশুলিয়া থানাকে কুটুরিয়া এলাকায় একটি গরুর হাট বসানো যেতে পারে কি না। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে বলে তিনি এ প্রতিবেদকে জানান।

আরও পড়ুন >> সরকারি হচ্ছে ৩০৩ কলেজের শিক্ষকদের চাকরি


এ ব্যাপারের আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্য রিজাউল হক দিপু দৈনিক ফুলকিকে বলেন, আমরা কোরবানীর পশুর হাট বসানো জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারি না। আমাদের কাছে সাভার উপজেলার মধ্যে ৬ টি গরুর হাটের অনুমতিপত্র হাতে আছে। এ ৬টির বাহিরে যারা হাট বসিয়েছে তাদের হাটগুলো অবৈধ বলে তিনি জানান। এ বিষয়টি তিনি দেখবেন বলেও এ প্রতিবেদকে নিশ্চিত করেন।


এছাড়াও বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়া থানার মির্জানগর এলাকার ঘোড়াপীর মাজার সংলগ্ন গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু বেচা-কেনা চলছে। অথচ খবর নিয়ে জানা গেছে, ঐ সময়ে উপজেলায় এ হাটটির দরপত্র সবেমাত্র খোলা হচ্ছে। কিন্তু এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, এ কোরবানীর পশুর হাটটি ২দিন আগ থেকে চলছে। এ কোরবানীর পশুর হাটটি সাভার উপজেলার অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট বসানোর অনুমোদন পাওয়া ৬ টির মধ্যে একটি। এ হাট দরপত্র সিডিউল আহবান করার আগে থেকেই গত ৪ আগস্ট রবিবার থেকে পশু কেনা বেচাসহ সকল প্রকার প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি শফি উদ্দিন মেম্বার।


এ ব্যাপারের এ পশুর হাটের ইজারাদার পরিচয় দিয়ে শফি উদ্দিন মেম্বার জানান, আমরা ১৫ থেকে ২০ দিন আগে উপজেরা নির্বাহী অফিসারের বরাবর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই এখানে গরুর হাট বসানো উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি মোবাইল ফোনের লাইনটি কেটে দেন। এছাড়াও আশুলিয়া ডেন্ডাবরের সোনা মিয়া রোড এলাকায় গ্রীণ সিটিতে গরু-ছাগলের হাটে এমনিই চিত্র দেখা গেছে।