একজন জননীর রক্তাক্ত দেহ এই মানুষদের চোখ খুলে দিতে পারেনি

0
98
বাঁ-দিকে বাড্ডায় ছেলেধরা গুজবে এক মাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। ডানে অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

কতটা হিংস্রতা গ্রাস করেছে একটি সমাজকে যে মানুষ – একজন নয়, দুইজন নয় – অনেক মানুষ একসঙ্গে উন্মত্ত হয়ে সবার সামনে একজন মানুষকে পিটিয়ে খুন করে ফেলছে। এই ঘটনা একবার ঘটেনি, এক জায়গায় ঘটেনি, একটি শহরে ঘটেনি – গত ছয়মাসে ৩১ বার ঘটেছে সারা দেশে। 

কতটা অন্ধত্ব গ্রাস করেছে যে, একজন জননীর রক্তাক্ত দেহ এই মানুষদের চোখ খুলে দিতে পারেনি। কতটা বধির হয়ে গেছে মানুষ যে একজন বাক-প্রতিবন্ধীর আর্তচিৎকার তারা শুনতে পায়নি। কতটা বিবেকহীন হয়ে গেছে এই হত্যাকাণ্ডের অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি ব্যক্তি যে তার মনেও হয়নি তার প্রিয় মানুষটি আরেক জায়গায় ঠিক এইভাবেই খুন হয়ে হয়ে যেতে পারে।এই যে যারা এই হত্যাকাণ্ডের অংশীদার তারা আপনার-আমার মতোই সাধারণ মানুষ – একে সম্ভবত হানাহ আর্নেটের ভাষা ধার করে বলতে পারি ‘ব্যানালিটি অফ ইভিল’ – ‘অশুভের গতানুগতিকতা’। কিন্তু এই গতানুগতিকতা কিভাবে তৈরি হয়েছে? এই প্রশ্নটা না করে আপনি এই ভয়াবহ প্রবণতাকে মোকাবেলা করতে পারবেন না। সমাজ থেকে সহিষ্ণুতা নির্বাসন দিয়ে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা অবসিত হবার পরে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকে রাষ্ট্রিক ও সামাজিকভাবে স্বাভাবিক ও বৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পর এই ভয়াবহ প্রবণতা রোধের জন্য কী করণীয়, কোথা থেকে শুরু করতে হবে তা নিশ্চয় বোধগম্য।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর