খৎনা করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, পালালেন ‘ডাক্তার’

0
46

পাবনাতে খৎনা করার সময় রিসকাত হোসেন নামে এক মাস ২৫ দিন বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রস্রাবের সমস্যায় খৎনা দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত ডা. মো. ইকবাল হোসেন (ডিএমএফ) ও তার সহযোগী বাজারের ওষুধের দোকানদার জয়ন্ত পালিয়ে যায়।

শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুটি লালপুর থানার পাটকেবাড়ি (পশ্চিমপাড়ার) সজিব হোসেন ও রুবি খাতুনের ছেলে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ ও ব্যবহৃত ওষুধের বোতল উদ্ধার করে। এলাকাবাসী ডাক্তার ও তার সহযোগীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে কয়েক ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘেরাও করে রাখে।

এ বিষয়ে শিশুটির ফুপু তাসলিমা খাতুন জানান, রিসকাতকে নিয়ে ৫ দিন আগে তারা ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন। তখন ডাক্তার ইকবাল বলেন, প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়েছে, খৎনা দিতে হবে। টাকা না থাকায় তারা ফিরে যান। শনিবার সকালে ডাক্তার ইকবাল শিশুটিকে খৎনা দিতে হবে বলে মোবাইল ফোনে তার ভাইয়ের স্ত্রী রুবিকে ডেকে আনেন। ১ হাজার ৫০০ টাকার চুক্তিতে দুপুর দুইটার দিকে শিশুটিকে কয়েকটি ইনজেকশন দিয়ে খৎনা দেন। এ সময় শিশু রিসকাত মারা যায়।

তিনি আরো জানান, ডাক্তার শিশুটি মারা গেছে বুঝতে পেরে তার মায়ের কোলে দিয়ে সহযোগী জয়ন্তকে নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি এ ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে দাবি করে ডাক্তার ইকবাল ও জয়ন্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ সময় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, ডাক্তার ইকবাল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা সকল ওষুধ তার সহযোগী বাজারের ওষুধ বিক্রেতা জয়ন্তের মাধ্যমে বিক্রয় করেন। এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসলে চরম দুর্ব্যবহার করেন।

তারা আরো জানান, ভুল চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে পালিয়েছে। তার শাস্তি হওয়া দরকার।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সুন্নতে খৎনা দেয়ার কোনো যন্ত্রপাতি ও অনুমতি নেই।‘ ইকবাল হোসেন একজন মেডিকেল সহকারী বলে জানান তিনি।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) অরবিন্দ সরকার জানান, ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত শিশুটির পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ডাক্তার ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগী জয়ন্ত পলাতক রয়েছেন।