নিয়ন্ত্রণহীন বিচার বিভাগে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে : বিএনপি

0
40
Hewlett-Packard

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচার বিভাগে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দলটির পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হয়।

বিকেলে ৪টা থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ মন্তব্য করে বিএনপি। বৈঠকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও ডেঙ্গু মশার বিস্তারসহ নানা বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, দেশে আজকে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনগণের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। আদালতের ভেতরে হত্যা, শিশুর মাথা কেটে ফেলা, প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা এবং তার পরিবর্তে যে ঘটনাগুলো ঘটছে যেমন, প্রধান আসামী (০০৭ নয়ন বন্ড) তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হলো। সেই মামলার বাদী (আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি) তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে (গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে)। পুরো পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচার বিভাগে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।’

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে অজ্ঞাত সুব্রত বাইন পরিচয় দিয়ে গুম করার হুমকির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একজন র‌্যাব সদস্য আত্মীয়ের সঙ্গে জমির সমস্যার কারণে গোয়েন্দা দিয়ে তুলে নিয়ে তাকে হত্যা করছেন। যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে তারাই এখন সব চাইতে তা ভঙ্গ করছেন। সরকার বলতে যা বুঝায়, তা আছে কিনা জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণ নিরব থাকে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে দেশ চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়ে একটা জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করতে হলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করছি এবং বিষয়টাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি হজ দলের সদস্য হয়েছেন। যার প্রধান হচ্ছেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি।’

সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ড ও হজ কমিটির গঠনের গেজেটের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন এরা যে সংবিধানকে একেবারে তোয়াক্কা করেই না, সংবিধানের আশে-পাশ দিয়ে যায় না এবং একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রটাকে তারা তারে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোই নেই। সেখানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কোন আইনে একটা হজ ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনার প্রদানের জন্যে একটি হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন। এটা ডিসগ্রেসফুল। চিন্তা করা যায় না তিনি এরকম কমিটিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন। উনি (সিইসি) যদি হজ্ব করতে চাইতেন তাহলে বাদশাহর বিশেষ মেজমান হয়ে যেতে পারতেন। এই যে আপনার আত্মসম্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে আপনার নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়। যার ফলে এদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তারা কোথায় নিয়ে গেছেন।’

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চরমভাবে উদাসীন বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বন্যাপরিস্থিতির অবনতিতে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। কিন্তু  দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে। তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সদস্য সচিব ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীন। কমিটিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাক, সংশ্লিষ্ট জেলার নেতৃবৃন্দও থাকবে। অবিলম্বে তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।

ডেঙ্গু এখন ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছে না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে।’ অথচ একজন মেয়র বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত নাকী কিছুই হয় নাই।’ এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারীর নিচে রাখছেন, বড়রা মোজা পরে থাকেন-কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি-এটাই বাস্তবতা বলছি।’

বৈঠকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান,সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।