ত্বকে সমস্যা হয় রেইনকোট থেকে

0
62

এক সময়ে ভাবা হতো শীত ও বর্ষা এই দুই সময়ে ছাতার মত বন্ধু আর কেউ নেই। তবে এখন ছাতার মত বর্ষাকালে ব্যবহার বাড়ছে রেইনকোটের। তবে বর্ষায় রেইনকোট পড়ার ব্যাপারে কিছু সাবধানতা মেনে চলতে হয়। এই সময়টায় ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে অনেক।

বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে মুক্তি নেই। তাই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে রেইনকোট পড়লেও গরমে ঘেমে গায়ে ঘাম বসে যায়। ছোটদের বেলায় স্কুলে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রেইনকোট খুলে মেলে শুকিয়ে নেয়া উচিত। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা ভিজা রেইনকোট ভাঁজ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে এবং পরবর্তীতে পরে ফেলে।

এর ফলে এক দিকে ত্বকের নানা সংক্রমণ ও অন্যদিকে ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ে। শুধু রেইনকোট নয় ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকলেও পায়ে জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এই সময়টায় বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণের মধ্যে ফাঙ্গাস অর্থাৎ ছত্রাকের মাধ্যমে ক্ষতি হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে যে সব শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি, তাদের সংক্রমণের প্রবণতাও বেশি।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবাণু ত্বকের উপরে দিকে থাকে এবং সুযোগ পেলেই আক্রমণ করে। ত্বকে ঘাম জমলে জীবাণু দ্রুত সেখানে বংশবিস্তার করতে পারে।

রিংওয়ার্ম

১৫ বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের মধ্যে এই ছত্রাকের সংক্রমণ সব থেকে বেশি দেখা যায়। ত্বকের এই সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে হতে পারে। মূলত অপরিচ্ছন্নতা এই ছত্রাকদের দ্রুত বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ভেজা পোশাক ও জুতা-মোজা অনেক সময় পরে থাকলে রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

যেখানে হয়

পায়ের পাতায় এই সংক্রমণ হলে একে বলে টিনিয়া পেডিস বা অ্যাথলেটস ফুট।

উরু ও নিতম্বে সংক্রমণের নাম টিনিয়া ক্রুরিস বা জক ইচ।

মাথার তালুতে ঘাড়েও রিংওয়ার্ম হয়। একে বলে টিনিয়া ক্যাপিটিস।

যেভাবে সারাবেন

বর্ষায় ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে বেশি সময় রেইনকোট পরে না থাকাই ভাল। বরং ছাতা ব্যবহার করুন। আর বাড়ি ফিরেই ভাল করে গা শুকিয়ে মুছে ফেলুন।

ভেজা রেইনকোট ব্যাগে না রেখে বাতাসে মেলে রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।

ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকলেও সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে জুতা বদলে ফেলুন।

অনেক সময় জুতা-মোজা ধোয়ার পর তা না শুকিয়ে বাচ্চাকে পরান। দরকারে জুতা-মোজার কয়েকটি সেট রাখুন।

বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সামান্য গরম পানিতে গোসল করে নিন।

বাড়ি ফিরে সাবান দিয়ে পা পরিষ্কার করে গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে পায়ের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

বৃষ্টির দিনে গোসল করা বন্ধ করলে সমস্যা বাড়বে তাই গোসল না করা ভুল।