মাসুদের পর ভারতের নিশানায় দাউদের ডি-কোম্পানি

0
30

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার পর এবার দাউদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উঠে পড়ে লাগল ভারত সরকার। পাকিস্তানের মদদপুষ্ট দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হল ভারত। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেছেন, আমাদের এলাকায় (ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায়) সবচেয়ে বড় বিপদ হল পাকিস্তানের মদদপুষ্ট দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানি। তিনি বলেন, ডি-কোম্পানি, লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ গোটা ভারতীয় উপমহাদেশে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। মানুষ পাচার, মাদক পাচারের মাধ্যমে এরা বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে।একটা আন্ডারওয়ার্ল্ড অপরাধীদের সিন্ডিকেট থেকে সন্ত্রাসবাদীদের বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে ডি-কোম্পানি। আমরা কাউন্সিলের সব সদস্য দেশের কাছে আবেদন জানাচ্ছি দাউদ ইব্রাহিমকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করা হোক এবং ডি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। সবটাই করা হোক জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১২৬৭ নম্বর কমিটির সুপারিশ মেনে বলেও দাবি জানান আকবরউদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, দাউদের কাজকর্ম নিয়ে এফবিআই, ইন্টারপোল সব জানে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এদের কাজকর্ম নিয়ে অনেক দেশের সরকারই অন্ধকারে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে সব দেশের সরকারই জানে দাউদ ও ডি-কোম্পানি কী করে। সোনা পাচার, মাদক পাচার, মানুষ পাচার, জাল টাকা পাচার, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ কারবার, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে বেআইনি কারবার করাটাই এদের প্রধান কাজ। প্রতিবেশী দেশের নিরাপদ আশ্রয় থেকে এই কারবার দাউদ চালায়। একইসঙ্গে ভারতে সন্ত্রাসও রপ্তানি করে। সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে নিজের ডি-কোম্পানির সিন্ডিকেটকেই ব্যবহার করে দাউদ।

আকবরউদ্দিন বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিষদ ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং ইসলামিক স্টেটকে শায়েস্তা করতে পারে তাহলে ডি-কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিতে পারবে। শুধু দরকার যৌথ উদ্যোগ। এক্ষেত্রে ১২৬৭ নম্বর কমিটির সাহায্য নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি। এছাড়া এফবিআই দাউদের যে ৬টি আস্তানার কথা জানিয়েছে তা ভারতের দেওয়া তালিকার নামের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ওই তালিকায় দাউদের ৬টি গোপন আস্তানার উল্লেখ রয়েছে।