পাহাড় ধসের আশঙ্কায় খাগড়াছড়ি জেলায় সতর্কতা জারি

0
35

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা :

টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে বসবাস করা লোকজনকে পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য জেলাজুড়ে করা হচ্ছে মাইকিং। যে কোনও ধরনের দুর্যোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য করা হয়েছে জরুরি সভা।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের পর থেকেই মাইকিং শুরু হয় জেলার প্রতিটি উপজেলায়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম সালাহউদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিব উল্ল্যাহ মারুফসহ সরকারি, বেসরকারি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, পুরো জেলায় নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ৮০০ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসন দফায়-দফায় ৯ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকবার জরিপ  করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সংখ্যা নিরূপণ করেছে। পাহাড় ধসের হুমকিতে থাকা এসব পরিবারের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ১১ পরিবারকে স্থায়ী ও নিরাপদস্থানে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা সকল পরিবারের পাশে পর্যায়ক্রমে দাঁড়াবে সরকার। ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সম্পদহানি ঠেকানোসহ প্রাণহানি যাতে না হয় সেজন্য উদ্যোগ নেবে সরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে নিতে হবে এবং এ জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। দুর্গত লোকদের রাতে থাকার জন্য বিভিন্ন এলাকার স্কুল ও কলেজ খোলা রাখারও নির্দেশ দেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা আবদুল কাদের, খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সম্পাদক মো. শানে আলম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন বলেন খাগড়াছড়ির আটটি  উপজেলা শহরের চারপাশের পাহাড়গুলোও অপরিকল্পিত নগরায়নের কালো থাবার শিকার। বড় ধরনের দুর্ঘটনার  আগেই এখানে বসবাসকারীদের পাহাড়ের প্রতিশোধ নেওয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা ও জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা দরকার।

সভাশেষে জেলা প্রশাসকসহ  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শহরের বিভিন্ন পাহাড়সংলগ্ন  ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন।