পলাশ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

0
60

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে থানা রোড বাসস্ট্যান্ডে পলাশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় তানিয়া আক্তার (২০) নামের এক প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে হাসপাতালটির বিপণন কর্মী শামসুন্নাহার (৪৫)কে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সোমবার বিকেলে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত পলাশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক (প্রাঃ) লিমিটিডে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ওই নারীর নাম তানিয়া খাতুন (২০)। সে স্বামী আজিজুল হাকিমের সাথে আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ী এলাকার সাত্তারের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি তৈরী পোশাক কারখায় কাজ করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটককৃত সামসুন্নাহার মাদারিপুর জেলার সদর থানার পাঁচখোলা গ্রামের গোলাম হোসেনের স্ত্রী। সে বেসরকারী এনজিও ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে চাকুরীর পাশাপাশি পলাশ হাসপাতালে রোগী সরবরাহ করতেন।

পলাশ হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুবি খানম বলেন, সোমবার দুপুরে তানিয়া নামে একজন গর্ভবতী নারী প্রসব ব্যাথা নিয়ে তাদের হাসপাতালে আসেন। এসময় আমরা তার ফিটনেস ও যাবতীয় পরিক্ষা করিয়ে অপারেশন থিয়েটারে পাঠাই। সেখানে হাসপাতালের মালিক এবং সিজারিয়ানের সার্জন ডাঃ সৈয়দ মোকাররম হোসেন পলাশের উপস্থিতিতে এ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক টিটু তাকে অজ্ঞান করার জন্য ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থায় খারাপ হয়ে যায়।

নিহতের স্বামী আজিজ বলেন, তানিয়ার প্রসব ব্যাথা হলে সোমবার বিকালে পলাশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি না নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ওটিতে নিয়ে যায়। ওটিতে সিজার শেষে আধা ঘন্টা পরে তাদের কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ঢাকা মেডিকেল পাঠানোর কথা বলে।

সেখানে গেলে ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জানান, প্রসূতি মা ও নবজাতক দু’জনই প্রায় দু’ ঘন্টা আগেই মারা গেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী ও সন্তান তাদের হাসপাতালেই মারা গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসক যখন অপারেশন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তখন ঢাকা মেডিকেল পাঠানো কথা বলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন বলেন, তানিয়া নামের এক গর্ভবতী নারীকে সাভারের পলাশ হাসপাতালে এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করে তার স্বজনরা। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ও তার গর্ভের সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের মালিক ডাঃ সৈয়দ মোকাররম হোসেন পলাশ বলেন, গর্ভবতী নারীর সিজারের জন্য আমরা অপারেশন থিয়েটারে ঢুকাই। এ সময় তাকে এ্যানেস্থেশিয়া দেয়া হলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। এ ঘটনায় আমাদের সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা পর প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করি।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমজাদুল হক বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশের সাথে কথাও বলেছি। মামলা নথিভুক্ত হলে আমরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিব।

তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আমার কথা হয়েছে, তারা অজ্ঞান করার ঔষধও দিয়েছিল। কিন্তু সিজার করার আগেই রুগীনীর অবস্থা খারাপ হলে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। কিন্তু পথেই মারা যায়। তার ধারণা এনেসথেসিয়ায় কোন সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।