প্রধানমন্ত্রী ও পিবিআইকে নুসরাতের মায়ের ধন্যবাদ

0
76

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার দাবি করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। বুধবার (২৯ মে) নুসরাত হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এই কথা বলেন। সব ধরনের সহায়তার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে দ্রুত নুসরাত হত্যা মামলার আসামিদের ধরার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কারণে নুসরাত হত্যা মামলার সব আসামিকে পিবিআই দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পেরেছে। আমাদের পরিবারকেও প্রধানমন্ত্রী অনেক সহায়তা করেছেন। রমজানের পবিত্র মাসে প্রধানমন্ত্রীর জন্য মন থেকে আমি ও আমার পরিবার দোয়া করি। প্রধানমন্ত্রী নুসরাতকে তার মেয়ের স্থানে স্থান দিয়ে আমাদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

পিবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নুসরাতের মা বলেন, ‘পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা নুসরাতকে বোনের মতো ভেবে নিরসলভাবে কাজ করেছেন। কম সময়ের মধ্যে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার করে নজির সৃষ্টি করেছেন।’

কোনও ধরনের হুমকি কিংবা চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘প্রকাশ্যে কোনও হুমকি না দিলেও ভিন্নভাবে অনেক ধরনের হুমকি আসে। তবে আমরা এটাকে আমলে নেই না। যেখানে প্রধানমন্ত্রী সব দায়িত্ব নিয়েছেন সেখানে আমরা ভয় পাই না।’

আজ বুধবার (২৯ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রারার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছেন  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম। অন্য অভিযুক্তরা  হলেন- নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল নুসরাতকে কৌশলে ওই মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। সেখানে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মামলা করেন। ১০ এপ্রিল ওই মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে ১২ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া ৯২ সাক্ষীর মধ্যে সাত জনের সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।