ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতকের মা-বাবা লাপাত্তা

0
82

হাসপাতালের ইনকিউবেটরে থাকা ১১ দিনের এক নবজাতকের পরিচয় মিলছে না। তার মা-বাবা কে? এই পরিচয় জানতে এখন গলদঘর্ম হচ্ছেন ফরিদপুর শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে গত ১১ দিন যাবত চিকিৎসাধীন শিশুটি। সদ্য ভূমিষ্ট শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অগত্যা নিজেদের খরচেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে তাকে তার মায়ের কোলে বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবেন সেটি তারা জানেন না।

শহরের নিলটুলীতে অবস্থিত ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের পুরনো পাঁচতলা ভবনের তিন তলার ৩০৭ নম্বর কক্ষটি ইনকিউবেটর রুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই কক্ষের ১০ নম্বর ইনকিউবেটরে রয়েছেন শিশুটি। গত ১৫ মে জন্ম হয় এই মেয়ে শিশুর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের সুজয় নামে এক ব্যক্তি সংকটাপন্ন অবস্থায় সদ্যজাত ওই শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করান। সেই থেকে শিশুটি ইনকিউবেটরে রয়েছে। হাসপাতালের রেজিস্টারে শিশুটির বাবার নাম সুজয়, গোপালগঞ্জ দেয়া আছে। সাথে রয়েছে একটি মোবাইল ফোন নম্বর।

কর্মরত নার্স জানায়, ওইদিন সন্ধ্যায় সুজয় নামে এক ব্যক্তি শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শিশুটির মা খুবই অসুস্থ এবং তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানা তিনি। সুজয়ের সাথে আনুমানিক ৪৮ বছর বয়সী এক নারীও ছিলেন। তবে ওই নারীর নাম কিংবা সুজয়ের সম্পূর্ণ ঠিকানা নেই। এরপর গত ১৮ মে সকালে সুজয় ও ওই নারী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকে অভিভাবকশূন্য শিশুটি হাসপাতালে একাকী পড়ে আছে।

ওই হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মো: শফিউল্লাহ জানান, শিশুটির ওজন মাত্র দুই কেজি। খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে জন্ম নিয়েছে সে। এজন্য শিশুটিকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালে কর্মরত ডা: তানভীর আহমেদ জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে তার অভিভাববকদের সন্ধান না পাওয়ায় নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।

শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: সালাহ্উদ্দিন জানান, হাসপাতালের নথিতে শিশুটির বাবা সুজয় যে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়েছিলেন সে নম্বরে এক দফা কথা বলা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সুজয়ের সাথে কথা বলে শিশুটির ব্যাপারে তার তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যয়নি। এরপর থেকে গত চারদিন ধরে ওই মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। অন্য মায়েদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে শিশুটিকে পান করানো হচ্ছে। ওষুধসহ যাবতীয় সামগ্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে।

তিনি বলেন, শিশুটির অভিভাবকেদের খোঁজ পাওয়া না গেলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে জানিয়ে এ ব্যাপারে আমাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।