চীনে যৌন দাসত্বে বাধ্য করা হচ্ছে উ. কোরিয়ার নারীদের

0
127

চীনের হাজার হাজার উত্তর কোরীয় নারী ও মেয়ে শিশুকে যৌন বাণিজ্যে কাজ করার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে বলে লন্ডন ভিত্তিকএকটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

লন্ডনভিত্তিক কোরিয়া ফিউচার ইনিশিয়েটিভ বলছে, এই নারীদের অপহরণ করে যৌন দাসত্বের জন্য বিক্রি করা হয়, অথবা চীনা পুরুষদের বিয়ে করার জন্য বাধ্য করা হয়।সংস্থাটির মতে, বিভিন্ন অপরাধ সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর এই উত্তর কোরীয় নারীদের নিয়ে ১০ কোটি ডলারের যৌন বাণিজ্য হয়ে থাকে।

চীন তার দেশ থেকে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কারণে প্রায়ই এই নারীদের কোন উপায় থাকে না। সেজন্য তারা ফাঁদে আটকা পড়েন এবং বাড়ির ভেতরে নির্যাতন সয়ে যান।

প্রতিবেদনটির লেখক ইউন হি-সুন বলেন, এসব ভুক্তভোগী নারীদের মাত্র ৩০ চীনা ইউয়ান অর্থাৎ চার ডলারের বিনিময়ে যৌন দাসত্বের জন্য বিক্রি করা হয়। মাত্র ১০০০ ইউয়ান বা ১৪০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করা হয় স্ত্রী হিসাবে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী অনলাইন শ্রোতাদের মাধ্যমে শোষণের জন্য যৌন দাসত্বে অন্ধকার জগতে পাচার করা হয়।

পাচারের শিকার এই মেয়ে ও নারীদের বয়স হয়ে থাকে সাধারণত ১২ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। অনেক সময় এর চেয়ে কম বয়সীরাও পাচারের শিকার হয় বলে রিপোর্টে উঠে আসে। তাদের চীনে নির্যাতন করা হয় না হলে বিক্রি বা অপহরণ করা হয় অথবা সরাসরি উত্তর কোরিয়া থেকে পাচার করা হয়।

অনেককেই একাধিকবার বিক্রি করা হয়েছে এবং নিজ দেশ ছাড়ার এক বছরের মধ্যে কমপক্ষে একবারের জন্য হলেও যৌন দাসত্বে বাধ্য করা হয়েছে বলে উঠে আসে প্রতিবেদনটিতে।

উত্তর-পূর্ব চীনের অনেক জেলাতে, যেখানে কিনা বেশির ভাগ অভিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, সেখানকার বহু পল্লীতে এমন অনেক নারীকে বন্দী অবস্থায় দাসীর মতো জীবন কাটাতে হচ্ছে। মেয়েরা – যাদের অনেকের বয়স মাত্র নয় বছর – তাদের এবং নারীদের সাইবার বাজারে যৌনতায় বাধ্য করা হয়। অনেক সময় ওয়েবক্যামের সামনে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের। এসব অনলাইন গ্রুপের অনেক গ্রাহক দক্ষিণ কোরীয় বলে ধারণা করা হয়।

আবার যেসব নারীদের বিয়েতে বাধ্য করা হয়, তাদের বেশিরভাগকেই ১০০০ থেকে ৫০ হাজার ইউয়ানের বিনিময়ে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করা হয়। তারা স্বামী দ্বারা ধর্ষিত ও নির্যাতনের শিকার হন বছরের পর বছর।

চীনে অবস্থানরত নারী ভুক্তভোগী সেইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানান্তরিত বেঁচে ফেরা নারীদের থেকে যাবতীয় সব তথ্য সংগ্রহ করেছে মানবাধিকার সংস্থা কোরিয়া ফিউচার ইনিশিয়েটিভ। তাদের মধ্যে একজন মিস পিওন। তিনি এসেছেন, উত্তর কোরিয়ার চোংজিন সিটি থেকে। 

এই প্রতিবেদনে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ব্যাখ্যা করেন তিনি:

“আমাকে আরও ছয়জন উত্তর কোরীয় নারীর সঙ্গে একটি হোটেলে বিক্রি করা হয়েছিল, সেটা ছিল মূলত একটা পতিতালয়। আমাদের পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হতো না এবং খুব খারাপ ব্যবহার করা হতো।”

“আট মাস পর, আমাদের থেকে কয়েকজনকে পুনরায় বিক্রি করা হয়। দালাল আমার সঙ্গে খুব খারাপ কাজ করেছিল।”

“যখন আমি সেই নতুন পতিতালয়ে আসি, তখন আমার সারা শরীরজুড়ে ক্ষত ছিল। কারণ ওই দালাল আমাকে ভীষণ মরাতো, তার দলের কয়েকজনকে দিয়ে আমার পায়ে কোপাত।’

এভাবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান মিস কিমও। (এখানে তার গ্রামের বাড়ির পরিচয় পরিবর্তন করা হয়েছে।)

‘চীনের দালিয়ান শহরে অনেক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক বসবাস করেন। আমরা তাদের হোটেল রুমের দরজার নিচে এই বিজ্ঞাপনের কার্ডগুলো দিয়ে রাখি। কার্ডগুলোয় কোরিয়ান ভাষাতে সব লেখা থাকতো।’

‘ওই বিজ্ঞাপন কার্ডে লেখা থাকতো যে আমরা তাদের জন্য কি কি সুবিধা ও সেবা দিচ্ছি। আমাদের বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন পানশালায় দালালের মাধ্যমে নেয়া হতো।’

‘দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য উত্তর কোরীয় পতিতা চেয়ে থাকে। পতিতাবৃত্তিতে আমার প্রথম অভিজ্ঞতা হয়েছিল এক দক্ষিণ কোরীয় ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার মাধ্যমেই।’- এমনটিই জানান মিস কিম। সূত্র: বিবিসি বাংলা