কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার কি গ্রেফতার হচ্ছেন?

0
119

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া এক রায়ে কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার পেয়েছে সে দেশের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এরআগে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে রাজীবকে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, তাকে গ্রেফতার করা যাবে না।  তবে সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের রায়ের পর রাজীবকে গ্রেফতারের বাধা দূর হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রধান বিচারপতির কাছে রাজীবের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাজির করে সিবিআই তাকে হেফাজতে নেওয়ার অপরিহার্যতা প্রতিপন্ন করতে সমর্থ হয়েছিল। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে তার গ্রেফতারের পথের বাধা সরিয়ে নেওয়া হয়। 

বেআইনিভাবে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি রুপি সংগ্রহের অভিযোগে ২০১৩ সালে সারদা নামে একটি সংস্থার মালিকদের গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলার প্রাথমিক তদন্তকারী দলের প্রধান ছিলেন রাজিব কুমার। পরে মামলাটি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাজিবকে বেশ কয়েক দফা ডেকে পাঠানো হয়। সিবিআইয়ের অভিযোগ সেসব নোটিশ অগ্রাহ্য করেছেন তিনি। পরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজিবের কলকাতার বাসভবনে সিবিআইয়ের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

সারদা মামলায় রাজ্য সরকার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছিল সিবিআই। হলফনামা দিয়ে সিবিআই অভিযোগ করেছিল, সারদা তদন্তে রাজ্য সরকার গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল(সিট)-র অন্যতম প্রধান আধিকারিক রাজীব কুমার এই মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য লোপাট এবং বিকৃত করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার সমন পাঠালেও তিনি আসেননি। এই সওয়াল শুনে রাজীব কুমারকে শিলংয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তবে সেই সঙ্গে রাজীবকে গ্রেফতারির রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছিল। শিলংয়ে যাওয়ার আগেই শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করা যাবে না।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চ জানায়, মামলার প্রয়োজনে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে সিবিআই। তবে তার অর্থ এই নয় যে, রাজীব কুমারকে সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর অর্থ, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নিয়ে জেরার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কোনও বাধা রইল না। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ রায়দানের সময় উল্লেখ করেন, রাজীব কুমারও আইনি সুরক্ষা পেতে সাত দিন সময় পাবেন। আইনজ্ঞদের মতে, আইনি সুরক্ষা বলতে এখানে আদালত আগাম জামিনের কথাই বুঝিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এপ্রিলে নির্বাচন কমিশন কলকাতার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব থেকে রাজীব কুমারকে সরিয় দেয়। আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি রাজীব কুমারকে গ্রেফতারের নির্দেশ না দিলেও, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। এর অর্থই রাজীব কুমারকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না সিবিআইয়ের।

এরআগে শিলংয়ে টানা পাঁচ দিন জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজীব কুমারকে। তার সম্পূর্ণ রিপোর্ট একটি মুখবন্ধ খামে শীর্ষ আদালতে জমা দিয়েছিল সিবিআই। সিবিআই সূত্রে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ওই রিপোর্টে রাজীবের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট পড়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন ‘অত্যন্ত গুরুতর’। রাজ্যের এই শীর্ষ কর্তা যে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও অত্যন্ত অসহযোগিতা করেছেন, সে তথ্যও সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল সিবিআই।

এরপরই সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়, তদন্তের প্রয়োজনে অবিলম্বে রাজীব কুমারকে হেফাজতে নেওয়া দরকার। সিবিআইয়ের আর্জি শুনে সুপ্রিম কোর্ট রাজীব কুমার এবং রাজ্য সরকারকেও পাল্টা হলফনামা পেশ করার সুযোগ দেয়। ৩ মে এই নিয়ে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সে দিন রায়দান স্থগিত রেখেছিল। শুক্রবার সেই মামলারই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।