ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দেশটির মিত্র কাতার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান সফর করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।  এই সফরের লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন-তেহরান চলমান উত্তেজনা নিরসন। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানি যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই অবস্থায় সৌদি আরবের একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা আরব নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে ফাঁস করে দিতে পারে কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংকট নিরসনের নতুন পথ খোঁজা এবং উত্তেজক পরিস্থিতি নিরসন। ওই কর্মকর্তা তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জাফরির সাথে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের খবর নিশ্চিত করলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে কাতারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি। আর ২০১৭ সালে কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশের অবরোধের পর দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান; উভয় দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে কাতারের।

সৌদি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য তেহরানের কাছে কাতার ফাঁস করে দিতে পারে বলে ঝুঁকি রয়েছে।

রিয়াদভিত্তিক আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হামদান আল-শেহরি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত তাহলে কাতারের পক্ষ থেকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি রয়েছে। এমন ‘ষড়যন্ত্র’ কাতার আগেও করেছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান সম্পর্কে কাতারি সেনারা ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কাছে তথ্য ফাঁস করেছে।

আল-শেহরি বলেন, ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে বি-৫২ ও মার্কিন জঙ্গিবিমান উড়বে কাতারের আল-উবেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে। ওই সময় কাতার কীভাবে নিজেকে ইরানের মিত্র হিসেবে দাবি করবে? তারা উভয় সংকটে পড়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে সৌদি আরবে নেতৃত্বে অবরোধের কারণে। এই অবরোধে কাতারের সত্যিকারের চরিত্র সামনে এসেছে।

এই বিশেষজ্ঞের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে কাতার অদ্ভূত দেশ। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর শত্রুদের মিত্র বানিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করছে। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হুমকি ইরান। অথচ কাতার তাদের উপসাগরীয় ভাইদের বাদ দিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে।

আল-শেহরি বলেন, ইরানের পদক্ষেপের কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। এই একই অঞ্চলে রয়েছে কাতার। প্রশ্ন হলো, কাতার কী যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে? নাকি তারা ইরানের কাছে মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করে দেবে?

সৌদি আমেরিকান পাবলিক রিলেশন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সালমান আল-আনসারি বলেন, কাতার আরব দেশগুলোর বন্ধু সেজে নোংরা খেলা খেলছে। একই সঙ্গে তারা ইরান ও তাদের সমর্থিত মিলিশিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।